দিল্লি দাঙ্গা মামলা! অভিযুক্ত তাহির হুসেনের জামিন শুনানি নিয়ে বড় আপডেট দিল হাইকোর্ট

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ (Larger Conspiracy) মামলায় অভিযুক্ত তাহির হুসেনের জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব তলব করল দিল্লি হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি নিনা বনসাল কৃষ্ণর বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের নির্দেশ
উচ্চ আদালতে দায়ের করা পিটিশনে তাহির হুসেন করকরডুমা আদালতের গত ২৯শে জানুয়ারির জামিন খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তবে এই আপিলটি দায়ের করতে যে ৬৭ দিনের বিলম্ব হয়েছে, সেই বিলম্ব মার্জনা (condonation of delay) চেয়েও একটি আবেদন করেছেন তাহির। এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত দিল্লি পুলিশকে তাদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ই জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।

অভিযোগ গঠনের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
অন্যদিকে, দিল্লি দাঙ্গা মামলার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় এসেছে। এর আগে হাইকোর্ট এই মামলায় ‘অভিযোগ গঠন’ (framing of charges)-এর ওপর যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে নিম্ন আদালত এখন মামলার চূড়ান্ত আদেশের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত দেবঙ্গনা কলিতার একটি আবেদন খারিজ করেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আদালত কলিতাকে ইউএপিএ (UAPA) আইনের অধীনে মামলায় ব্যবহৃত নথি ও ডিজিটাল প্রমাণাদি খতিয়ে দেখার অনুমতি দিয়েছে।

মামলায় যাদের নাম জড়িয়েছে
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সিএএ (CAA) ও এনআরসি (NRC) বিরোধী আন্দোলনের সময় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় ৫৩ জন নিহত এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। এই দাঙ্গার নেপথ্যে থাকা ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন, ছাত্রকর্মী দেবঙ্গনা কলিতা, নাতাশা নারওয়াল, সাফোরা জারগারসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াই এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৬ই জুলাইয়ের শুনানিতে আদালত তাহির হুসেনের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।