বিপদ বাড়ল অভিষেকের! খুনের চেষ্টার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে FIR

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। একদিকে বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে সিআইডি (CID)-র তলব নিয়ে চাপের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তার ওপর নতুন করে ডায়মন্ড হারবারে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হলো এফআইআর (FIR)। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববির দায়ের করা এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের নেপথ্যে কী?
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে একটি দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। অভিজিতের অভিযোগ, সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, ওই হামলায় তাঁর শিরদাঁড়ায় গুরুতর চোট লাগে এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার পর দীর্ঘদিন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছিল।

সাড়ে ৭ বছর পর কেন পুলিশের দ্বারস্থ?
এতদিন পর অভিযোগ দায়ের করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিজিৎ দাস বলেন, “সে সময় ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সম্পূর্ণভাবে অভিষেকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাই লিখিত অভিযোগ জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেই আমার বিশ্বাস।” তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন ৪৪ মিনিট আগেই তিনি হামলার আশঙ্কা বুঝতে পেরেছিলেন এবং পুলিশকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু তখন কোনো সুরক্ষা মেলেনি।

অভিযুক্তের তালিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
অভিজিৎ দাসের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও জাহাঙ্গির খান সহ ৪০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মীর নাম রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সিআইডি-র সমন এড়ানো এবং অন্যদিকে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রেই খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের—সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি চাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। তবে এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।