ফ্লাইটের টিকিটের দাম বাড়ছে হু হু করে! এটিএফের দাম একধাক্কায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি, মাথায় হাত যাত্রীদের

গরমের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? কিংবা কাজের চাপে বাড়ি ফেরার কথা ভাবছেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে দুঃসংবাদ। বিমান পরিষেবায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি বিমান জ্বালানি বা এয়ার টার্বাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম একধাক্কায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ায় টিকিটের দাম ব্যাপক হারে বাড়তে চলেছে।
জ্বালানির দাম ও নতুন নিয়ম
এতদিন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম অস্থির থাকায় যাত্রীদের পকেটে চাপ বাড়ছিল। সেই অস্থিরতা কাটাতে জুন মাসের শুরুতে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘প্রাইজ স্টেবিলাইজেশন’ ফান্ড তৈরি করা হয়। কিন্তু নতুন এই নিয়মেই এবার জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ১০৫ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী তিন বছরের জন্য এই নতুন দামই কার্যকর থাকবে।
কেন বাড়বে টিকিটের দাম?
বিমান পরিচালনার মোট খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই খরচ হয় এই এটিএফ-এর পেছনে। ফলে জ্বালানির দাম ১০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলির অপারেটিং খরচ একধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিমানযাত্রীদের ওপর। অর্থাৎ, খুব শীঘ্রই আপনাকে আগের চেয়ে অনেকটা বেশি টাকা খরচ করে ফ্লাইটের টিকিট কাটতে হতে পারে।
ভোগান্তির মুখে যাত্রীরা: কমছে ফ্লাইটের সংখ্যা
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই বড় বিমান সংস্থাগুলি তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। ভারতের অসামরিক উড়ান ক্ষেত্রের ৯০ শতাংশ বিমান যেহেতু এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং ইন্ডিগো (IndiGo) নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এই সিদ্ধান্ত যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে:
এয়ার ইন্ডিয়া: তাদের ডোমেস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা ২২ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে।
ইন্ডিগো: তারা তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা ৫-৭ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সঙ্কটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির অস্থিরতা বজায় রয়েছে, যার রেশ আছড়ে পড়ছে ভারতের বিমান পরিষেবাতেও। ফলে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম এবং ফ্লাইটের অপ্রতুলতা—এই জোড়া ফলায় সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা যে বড়সড় ধাক্কা খেল, তা বলাই বাহুল্য।