‘মমতা সব জানতেন!’-দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তৃণমূল সাংসদ শতাব্দীর, রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা। সোমবার রাতে দিল্লির ঠিকানায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বৈঠক ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। বৈঠকের পর অবশেষে মুখ খুললেন শতাব্দী। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবং কাজের আলোচনার জন্যই তিনি শুভেন্দুকে নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন।

কেন বৈঠক? কী বললেন শতাব্দী? শতাব্দী রায় সাফ জানিয়েছেন, তিনি নিজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, আমার কিছু কথা আছে। তিনি আমার বাড়িতে এসেছিলেন। যৌথভাবে কীভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। মমতা আসছেন শুনে আমি অন্য সাংসদদেরও ফোন করি, তাঁরাও যোগ দেন।”

মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ দীর্ঘ ১৭ বছর দলে থেকেও কেন এই ক্ষোভ? শতাব্দীর কথায়, দলে দীর্ঘদিনের একনায়কতন্ত্র এবং দুর্নীতিই আজ তৃণমূলের এই পরিস্থিতির কারণ। তিনি অভিযোগ করেন, “বারবার দলের ভেতরে সমস্যাগুলোর কথা বলেছি, কিন্তু কেউ শোনেনি। হারের পর কথা বলছি এমন নয়, আগে বহুবার সতর্ক করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদ দুর্নীতি সম্পর্কে জানতেন না, এটা বিশ্বাস করা কঠিন।”

‘ভয় পাইনি, সমর্থন চেয়েছি’ বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকে বসা নিয়ে তৃণমূলের তরফে যে ‘ভয়’ পাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা দৃঢ়তার সঙ্গে খণ্ডন করেছেন শতাব্দী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো কাটমানির অভিযোগ নেই, তাই কারোর চাপের মুখে পড়ার প্রশ্নই ওঠে না। শুভেন্দু অধিকারী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের কাজে তাঁর সরকার আমাদের পাশে থাকবে।”

আগামীর পথে সাংসদরা সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও শতাব্দী ও অন্যান্য সাংসদদের বৈঠক হয়েছে বলে খবর। লোকসভায় তাদের ভূমিকা কী হবে, সেই রূপরেখাও প্রায় চূড়ান্ত। শতাব্দীর কথায়, “আমি মানুষের স্বার্থে কাজ করতে চাই। তৃণমূল এত দ্রুত ভেঙে পড়বে, সেটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।”

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শতাব্দী রায়ের এই মন্তব্য এবং শুভেন্দুর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বড়সড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।