পরমাণু নীতিতে কি বড় বদল আনল ভারত? ১২টি ওয়ারহেড মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে জল্পনা!

ভারতের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক রণকৌশল কি এবার বদলাতে চলেছে? আন্তর্জাতিক অস্ত্র নজরদারি সংস্থা ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (SIPRI)-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে, যা ভারতের পরমাণু নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মোতায়েন বলতে কী বোঝায়? সাধারণত, পরমাণু অস্ত্র নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার খাতিরে মূল ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা গুদামে রাখা হয়। কিন্তু ‘মোতায়েন’ (Deployment) করার অর্থ হলো, সেই ওয়ারহেডগুলোকে সরাসরি মিসাইল সিস্টেম, সাবমেরিন বা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে যুদ্ধের প্রয়োজন পড়লে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। সাধারণত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্যই এমন প্রস্তুতি রাখা হয়।
SIPRI-র রিপোর্টে যা জানা যাচ্ছে: SIPRI-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে যেখানে ভারতের কাছে ১৮০টি ওয়ারহেড ছিল, ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯০টি। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ, “দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, ভারত স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরমাণু ওয়ারহেডগুলো আলাদা মজুত রাখে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে যুক্ত করা এবং জলভাগে টহলদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত সম্ভবত এখন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ওয়ারহেডগুলোকে যুক্ত রাখার কৌশল গ্রহণ করছে।”
নীতি থেকে কি সরছে ভারত? দীর্ঘদিন ধরে ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (No First Use) বা আগে আক্রমণ না করার নীতি মেনে চলে আসছে। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষ পরমাণু হামলা না করলে ভারত নিজে থেকে তা প্রয়োগ করবে না। বর্তমানের এই কৌশলগত পরিবর্তন কি সেই নীতিকে প্রভাবিত করছে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে ভারত তাদের রক্ষণাত্মক অবস্থান থেকে বেরিয়ে কিছুটা আক্রমণাত্মক বা সতর্কতামূলক অবস্থানে সরে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মত: যদিও সরকারিভাবে এই বিষয়ে ভারত চূড়ান্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ভারতকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ওয়ারহেডগুলোকে লঞ্চারের সঙ্গে প্রস্তুত রাখা মানেই যেকোনো অপ্রত্যাশিত আক্রমণের মোকাবিলায় ভারতের ‘রিয়্যাকশন টাইম’ বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সময় বহুগুণ বেড়ে যাওয়া।
এখন দেখার বিষয়, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৌশলগত বদল নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয় কি না। আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের এই নড়াচড়া আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার সমীকরণে নতুন কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সব মহলের।