“শুভেন্দু অধিকারী ডাকলেও যাব”-অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা নিয়ে ট্রোলিংয়ের জবাব অপরাজিতার

টলিপাড়ার ‘ব্যান কালচার’ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের আবহে স্বরূপ বিশ্বাস ও অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। অতীতে অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দেওয়ার একটি পুরনো ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় তীব্র ট্রোলের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অবশেষে নীরবতা ভেঙে সেই ট্রোলারদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন অভিনেত্রী।

সৌজন্য বনাম সমর্থন ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে অপরাজিতা একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌজন্যবোধ আর রাজনৈতিক মতাদর্শ সমর্থন করা এক জিনিস নয়। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়া দশমীর আমন্ত্রণে আমি সৌজন্যের খাতিরে যেতাম। কেউ আমন্ত্রণ জানালে নাগরিক হিসেবে সেখানে যাওয়া আমাদের কর্তব্য। এর মানে এই নয় যে আমি ওই দলের মতাদর্শকে সমর্থন করি। যাঁরা এই দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না, তাঁরা অত্যন্ত অন্যায় করছেন।”

‘কাজের লোভে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হইনি’ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা ‘কাজের লোভে রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়া’র অভিযোগকে তীব্র নিন্দা করেছেন অপরাজিতা। তাঁর সাফ কথা, “সবাই কাজের লোভে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে সাংসদ শতাব্দী রায় বা সায়নী ঘোষের হাতের কাজ কখনোই খালি থাকত না। আমার কেরিয়ারের দিকে তাকালেও দেখবেন, ‘দাদা’ ছবিতে অভিনয়ের আগে আমার টানা ছ’মাস কোনও কাজ ছিল না। আমি মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে এভাবে বসে থাকতে হতো না।”

আগামী দিনের বার্তা ও আইনি হুঁশিয়ারি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অপরাজিতা জানান, “আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কেউ আমন্ত্রণ জানালেও আমি যাব। এটি আমার সামাজিক শিষ্টাচার ও ভদ্রতা।” ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে চলা ‘ব্যান কালচার’ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি যে বরাবরই প্রতিবাদী, তা মনে করিয়ে দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করেও তিনি দেব ও সুদেষ্ণা রায়ের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

সবশেষে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সম্পর্কে চলা কুরুচিকর মন্তব্যে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এবার তিনি এই নোংরামির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন। ট্রোলারদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।