ডেটিং অ্যাপের নেশায় বিপদ! তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে

আধুনিক প্রযুক্তির দৌরাত্ম্য ও অনিরাপদ জীবনযাপনের হাত ধরে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্ম। কর্ণাটক স্টেট এইডস প্রিভেনশন সোসাইটি (KSAPS)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের মধ্যে এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

সংক্রমণের ভয়ংকর পরিসংখ্যান পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কর্ণাটকে সক্রিয় এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬,৬০০ পার করেছে। এর মধ্যে সবথেকে উদ্বেগের কারণ হলো ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ। এই বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা ২০২৩-২৪ সালের ৯,৩৫১ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৪,৫৫৫-তে দাঁড়িয়েছে। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

কেন বাড়ছে সংক্রমণ? চিকিৎসকদের মতে, সংক্রমণের এই ভয়াবহ বিস্তারের পিছনে মূলত তিনটি কারণ দায়ী:

  • ডেটিং অ্যাপের অপব্যবহার: সহজেই সঙ্গী পাওয়ার সুযোগ বাড়ায় যৌন সঙ্গীর সংখ্যা বাড়ছে, যা সরাসরি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

  • অনিরাপদ অভ্যাস: কন্ডোম ব্যবহারে অনীহা এবং এইচআইভি ও অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ (STI) সম্পর্কে সচেতনতার অভাব।

  • অসচেতনতা: ‘আমার কিছু হবে না’—এই মানসিকতা ও সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. স্বাতী রাজগোপাল সতর্ক করে জানিয়েছেন, এইচআইভি ছাড়াও সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী গনোরিয়া চিকিৎসার অযোগ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রশাসনের সতর্কবার্তা ও ব্যবস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

  • ‘ব্রেকফ্রি’ (BreakFree) অ্যাপ: ঘরে বসে এইচআইভি ঝুঁকি মূল্যায়ন ও পরামর্শের জন্য এই অ্যাপটি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।

  • হেল্পলাইন ও ক্যাম্প: যেকোনো সহায়তার জন্য ১০৯৭ (1097) হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। এছাড়াও করপোরেট অফিসগুলোতে দুই মাসব্যাপী টেস্টিং ক্যাম্প এবং রাজ্যের ৪৪২টি ‘রেড রিবন ক্লাব’-এর মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।

কলেজের হোস্টেল ও করপোরেট সংস্কৃতিতে এই সংক্রমণের ‘ক্লাস্টার’ বা ‘পকেট’ তৈরি হওয়া প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় থাকতে সচেতন না হলে এই বিপদ আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।