ইন্ডি জোটের বৈঠকে বিধ্বস্ত মমতা! ৭ মিনিটের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ দিয়ে বেরোল মাত্র দুটি শব্দ

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং তার ঠিক পরেই দিল্লিতে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের বিভাজন—রাজনৈতিক জীবনে সম্ভবত সবথেকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমোর যে রূপ দেখল রাজনৈতিক মহল, তা কার্যত নজিরবিহীন। চিরচেনা সেই আক্রমণাত্মক মেজাজ আজ উধাও; পরিবর্তে সেখানে দেখা গেল এক বিধ্বস্ত ও স্তব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
সাংবাদিক বৈঠকে নিস্তব্ধতা সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঠিক পাশেই বসেছিলেন মমতা। গোটা সাংবাদিক বৈঠকটি ছিল প্রায় সাড়ে সাত মিনিটের। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। মিডিয়ার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তো দূর, মঞ্চের অন্যদের সঙ্গেও তাঁকে তেমন কোনো বাক্যালাপ করতে দেখা যায়নি। গোটা বৈঠকে তাঁর মুখ থেকে বেরোল মাত্র দুটি শব্দ—‘অ্যাট্রোসিটি’ (Atrocity) এবং ‘ভার্চুয়ালি’। মূলত কংগ্রেস সভাপতিকে জোটের সিদ্ধান্তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মনে করিয়ে দিতেই এই দুটি শব্দ ব্যবহার করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের সুযোগ না দিয়েই, সবার আগে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ক্ষোভের প্রতিফলন বাইরে স্তব্ধ থাকলেও, জোটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কিন্তু মমতা নিজের ক্ষোভ গোপন করেননি। দলীয় সূত্রে খবর, তিনি জোটের নেতাদের সামনে সরব হয়েছেন বাংলার ফলাফল এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। মমতা দাবি করেন, বাংলায় তৃণমূলকে ‘জোর করে হারানো’ হয়েছে এবং আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্যেও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, এদিন ২৫টি দল উপস্থিত থাকলেও ডিএমকে (DMK) এবং আপ (AAP)-এর মতো দলের অনুপস্থিতি জোটের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
রাশি কি আলগা হচ্ছে? এক সময় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির দরবারে ‘ইন্ডি’ জোটের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন, আসন সমঝোতা থেকে রণকৌশল—সবকিছুতেই যাঁর সিদ্ধান্ত ছিল চূড়ান্ত, আজ তাঁর এই ‘বিধ্বস্ত’ রূপ দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো? একদিকে নিজের নাকের ডগায় দল ভাঙার যন্ত্রণা, অন্যদিকে জোটের অন্দরেও ক্রমশ কোণঠাসা হওয়া—সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নীরবতা যে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত, তা বলাই বাহুল্য।