বিরোধী দলনেতা বিতর্ক: স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল!

রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন আদালত পর্যন্ত গড়াল। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি না দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মান্যতা দেওয়ার বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর বেঞ্চে মামলাটি দায়ের করার আর্জি জানান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্ট মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী ১১ জুন শুনানির দিন ধার্য করেছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে আগেই তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করে বিধায়কদের সই-সহ চিঠি স্পিকারকে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দল থেকে বিতাড়িত বিধায়কদের পদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সিআইডি তদন্তের রহস্য এই মামলার সঙ্গে সমান্তরালে চলছে সিআইডি তদন্তও। সূত্রের খবর, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার চিঠিতে বহু বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, সেই সভায় অনেক বিধায়ক উপস্থিতই ছিলেন না বলেও অভিযোগ। যে চিঠির সই জাল সংক্রান্ত এই বিতর্ক, সেই চিঠিটি বিধানসভায় জমা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সই জালিয়াতির অভিযোগে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা তৃণমূলের দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বিতাড়িত করার পরও তাঁদের পদ দেওয়াটা অসাংবিধানিক। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, সন্দীপন সাহাকে উপ-দলনেতা এবং জাভেদ খানকে মুখ্য সচেতক হিসেবে নিযুক্ত করা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে এখন চরম অস্থিরতা।

বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের কর্তৃত্ব হাতছাড়া হওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে মমতার দল কতটা সাফল্য পায়, তা এখন ১১ জুনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ।