‘অপারেশন লোটাস’ কি শুরু? ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে একঝাঁক তৃণমূল সাংসদ, জল্পনার কেন্দ্রে শুভেন্দু

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্য বিধানসভার পর এবার কি লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙন সময়ের অপেক্ষা? সোমবার দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে যা ঘটল, তাতে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

দিল্লিতে গোপন বৈঠক ও শুভেন্দুর ভূমিকা
সূত্রের খবর, বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আজ এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক আগেই সেখানে পৌঁছান তৃণমূলের একঝাঁক সাংসদ। এই বৈঠক ঘিরে দিল্লিতে এখন টানটান উত্তেজনা। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের ধারণা, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেই তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদরা গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

সাংসদদের পদত্যাগ ও অনিশ্চয়তা
এরই মধ্যে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। নিজের ইস্তফাপত্রে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘বেলাগাম দুর্নীতি’, ‘চরম নারী নির্যাতন’ এবং ‘অপশাসন’-এর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এই ইস্তফার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২ হলো। তৃণমূল সাংসদদের বেশিরভাগের ফোন ‘সুইচড অফ’ থাকায় জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে যে, পরবর্তী বড় পদক্ষেপের জন্য তাঁরা প্রস্তুত।

তৃণমূলের অন্দরমহলে অস্বস্তি
এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় স্বীকার করেছেন যে, তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে তিনি তৃণমূলে থাকার কথা জানালেও, সাংসদদের নিয়ে এই রহস্যজনক নীরবতা দলের উচ্চ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। এছাড়া অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা সংক্রান্ত গুজবও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

দিল্লির এই ঘটনাপ্রবাহকে বিরোধী শিবির ‘অপারেশন লোটাস’-এর প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লি টিমের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত সুতোয় ঝুলছে।