ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নানা পটেকর তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের খামখেয়ালি মেজাজের জন্যও পরিচিত। তবে বহু বছর আগের এক শুটিং সেটের ঘটনা আজও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। মণি রত্নমের কালজয়ী ছবি ‘রোজা’র সেটে নায়িকা মধুবালাকে (মধু) সপাটে চড় মারার ঘটনাটি নিয়ে আজও নানা জল্পনা শোনা যায়। কিন্তু ঠিক কী কারণে এমনটা করেছিলেন অভিনেতা?

ঘটনার নেপথ্যে: শুটিং চলাকালীন একটি দৃশ্যে নানা পটেকর এবং মধুবালা একসঙ্গে অভিনয় করছিলেন। তবে দৃশ্যটি একবার বা দুবার নয়, বেশ কয়েকবার ‘রিটেক’ করতে হয়েছিল। নানা পটেকর বরাবরই পারফেকশনিস্ট হিসেবে পরিচিত। তিনি চেয়েছিলেন দৃশ্যটি যেন একদম নিখুঁত হয়। জানা যায়, ওই দৃশ্যে মধুর অভিনয় এবং টাইমিং বারবার ভুল হচ্ছিল, যা নানা পটেকরের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

কেন চড় মেরেছিলেন? ঘটনাপ্রবাহে শোনা যায়, শুটিংয়ের মাঝে নানা পটেকর অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মধুর অভিনয়ে তাঁর বারবার ভুল হচ্ছে দেখে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন অভিনেতা। তাৎক্ষণিক রাগের মাথায় তিনি মধুবালাকে সপাটে চড় মেরে বসেন। এই ঘটনায় পুরো সেট মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে গিয়েছিল। এমনকি পরিচালক মণি রত্নমও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শুটিং থামিয়ে দেন।

পরবর্তীতে যা হয়েছিল: পরবর্তীতে এই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধলে নানা পটেকর নিজের সাফাই দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, দৃশ্যের প্রয়োজনে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর মতে, অভিনয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্যই তিনি এমনটা করেছিলেন। অন্যদিকে, মধুবালা পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, ওই ঘটনাটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল এবং সে সময় তিনি মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছিলেন।

নানা পটেকরের এই উগ্র মেজাজ বা ‘অ্যাক্টিং মেথড’ আজও চলচ্চিত্র জগতে এক চর্চিত বিষয়। শিল্পীর আবেগ আর পেশাদারিত্বের সীমারেখা কোথায়—তা নিয়ে আজও সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শেষ হয়নি।