সরকারি অফিসে এবার বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার! ৩ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার কড়া নির্দেশ

রাজ্যের সরকারি অফিসগুলিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। শুধু বসানোই নয়, অগস্ট মাসের মধ্যেই এই মিটারগুলি পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কাদের কাছে নির্দেশ?
এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি দফতরের প্রধান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলাশাসক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে। প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কাজে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে হবে। স্মার্ট মিটার বসানোর ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক?
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (RDSS)-এর নিয়ম মেনে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণগুলি হলো:

সঠিক তথ্য: বিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্ভুল তথ্য দ্রুত পাওয়া যাবে।

আধুনিকীকরণ: বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলা।

সহজ নজরদারি: বিদ্যুৎ পরিষেবার ওপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং অপচয় রোধ করা।

প্রকল্পের প্রেক্ষাপট
স্মার্ট মিটার চালুর ভাবনাটি দীর্ঘদিনের। ২০০৩ সালে বিদ্যুৎ আইন পাস হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এর নিয়মাবলি সংশোধিত হয়েছে। ২০২৪ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে স্মার্ট মিটার বসানোর বিষয়টিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে রাজ্যে এই প্রকল্পের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চললেও, বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতায় এই উদ্যোগে আবারও গতি সঞ্চার হয়েছে। প্রথম ধাপে সরকারি অফিসগুলোকে এর আওতায় আনা হলেও, আগামী দিনে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এটি এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।