TMC-র অন্দরে চরম অস্থিরতা! সাংসদদের ধরে রাখতে মরিয়া অভিষেক, দিল্লি ছুটলেন কেন?

বিধানসভা হারের পর থেকেই চরম অস্থিরতা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা বেড়ে ৫৮-তে পৌঁছানোর পর এবার নজর সরাসরি লোকসভার দিকে। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদও বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, যা ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাংসদদের শিবির বদল রুখতে তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিদ্রোহের নেতৃত্বে কাকলি ঘোষ দস্তিদার? চিফ হুইপের পদ থেকে সরানোর পর থেকেই প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সামনে রেখেই একটি বিদ্রোহী সাংসদ গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে।

৮ জুনের ‘হাই ভোল্টেজ’ বৈঠক: আগামী ৮ জুন দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু জাতীয় রাজনীতি নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ঠিক করতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

কংগ্রেসের নিশানায় বিজেপি ও তৃণমূল: এদিকে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির এই ভাঙন নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়কেই নিশানা করে অভিযোগ তুলেছেন যে, বিজেপি অত্যন্ত সুকৌশলে বাংলায় একটি ‘ছায়া তৃণমূল’ (Shadow TMC) তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে শুভঙ্কর সরকার মন্তব্য করেছেন যে, বিরোধী জোটে রাহুল গান্ধীর গুরুত্ব বাড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে তাঁর আগের সেই অবস্থান অনেকটাই হারিয়েছেন।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে? ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহ এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ। এর ওপর সাংসদদের ‘বিদ্রোহী’ হওয়ার খবর তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা। ৮ জুনের দিল্লির বৈঠকের পর বাংলার রাজনীতির ছবিটা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।