পাকিস্তানে ভয়াবহ আটা সংকট! সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ৮ শতাংশও পূরণ হলো না, হু হু করে বাড়ছে দাম

অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানে এবার প্রকট খাদ্য সংকট। সিন্ধু প্রদেশে সরকারের গম সংগ্রহ অভিযান শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে আটার দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রার ৮ শতাংশও পূরণ হয়নি!
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিন্ধু সরকার নতুন মরসুমে ১০ লাখ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ৪ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, খাদ্য বিভাগ মাত্র ৭৯,৮৩৫ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করতে পেরেছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৮ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এই ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ।
কেন এই ভরাডুবি?
সরকারি ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে খোলা বাজারের চড়া দাম। সরকার প্রতি ৪০ কেজি গমের জন্য ৩,৫০০ পাকিস্তানি রুপি সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করলেও, কৃষকরা বেসরকারি বাজারে তার চেয়ে অনেক বেশি দাম পাচ্ছেন। ফলে সরকারি সংগ্রহ কেন্দ্রে গম না দিয়ে চাষিরা সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য বিক্রি করছেন। এর সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা গম মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
আকাশছোঁয়া দাম, দিশেহারা সাধারণ মানুষ
মজুতদারির প্রভাবে খোলা বাজারে গমের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। করাচিতে ১০০ কেজি গমের দাম এখন ১১,১০০ রুপি এবং হায়দ্রাবাদে তা ১০,৯০০ রুপিতে পৌঁছেছে। সরকারিভাবে আটার দাম প্রতি কেজি ১০৭ রুপি নির্ধারণ করা হলেও, খুচরা বাজারে সাধারণ মানুষকে তা কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৩৫ থেকে ১৪০ রুপিতে।
সরকারের কড়া নির্দেশ
পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মজুতদারদের চিহ্নিত করে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে, সরকার যে এই মুহূর্তে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে। ৩.৩২ লক্ষ কৃষককে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্প শুরু হলেও, বর্তমানে এটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।