আরবিএসই-র বড় চমক! বদলে গেল নবম-দশম শ্রেণির সিলেবাস, কী কী পরিবর্তন এল জানেন?

রাজস্থান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (RBSE) নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির সিলেবাসে আনল বড়সড় পরিবর্তন। মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে পাঠ্যসূচিতে আনা হয়েছে এই সংশোধনী। বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, তত্ত্বীয় পরীক্ষার ৮০ নম্বর এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ২০ নম্বরের কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও, বিভিন্ন বিষয়ের নম্বর বণ্টন ও অধ্যায়গুলোতে গুরুত্বের ক্ষেত্রে আনা হয়েছে ব্যাপক রদবদল।

ইংরেজি ও ভাষায় বাড়তি নজর
ভাষা শিক্ষা আরও কার্যকর করতে ইংরেজি, সংস্কৃত এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় আনা হয়েছে বিশেষ পরিবর্তন। ইংরেজিতে পঠন দক্ষতা (Reading Skills) বা বোধগম্যতার ওপর এখন থেকে বাড়তি নম্বর বরাদ্দ থাকবে। ব্যাকরণ ও সাহিত্যের চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে পঠন ক্ষমতার গভীরতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। একইসঙ্গে, সংস্কৃত শিক্ষায় সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া উর্দু, গুজরাটি, সিন্ধি ও পাঞ্জাবি ভাষার ক্ষেত্রে লেখার দক্ষতা ও ভাব প্রকাশের ওপর জোর দিতে নম্বর বণ্টনে সংশোধন আনা হয়েছে।

গণিতে নতুন গ্রাফিক্যাল পদ্ধতি
গণিত ভীতি কাটাতে এই বিষয়ে আনা হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। দুই চলকের রৈখিক সমীকরণ যুগল অধ্যায়টির গুরুত্ব বাড়িয়ে নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে ‘রৈখিক সমীকরণ সমাধানের লেখচিত্র পদ্ধতি’ (Graphical Method) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গাণিতিক সূত্র মুখস্থ না করে গ্রাফের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান শিখতে পারবে। অন্যদিকে, সমান্তর প্রগতি অধ্যায়টির নম্বর সামান্য কমানো হয়েছে।

নতুন শিক্ষানীতির প্রতিফলন
বোর্ডের এই নতুন সিলেবাস পুরোপুরি জাতীয় শিক্ষানীতির চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রশ্নপত্রের ধরনও এখন বদলে যাচ্ছে। আগামী পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক বা অবজেক্টিভ প্রশ্ন, বিশ্লেষণাত্মক এবং প্রয়োগমূলক প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ানো হবে। মূলত, শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করা এবং মুখস্থ নির্ভরতা থেকে তাদের বের করে আনাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

Saheli Saha
  • Saheli Saha