বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা! পঞ্চায়েতের বাইরে উদ্ধার ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের শতাধিক বালতি

সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে মজুত ছিল রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে ও পার্টি অফিসে! শ্রীরামপুর নবগ্রাম ও রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই অভিযোগ ঘিরেই দানা বেঁধেছে চরম বিতর্ক। প্রকল্পের সরকারি বালতি চুরির অভিযোগে ইতিমধ্যে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল?
শুক্রবার গভীর রাতে শ্রীরামপুর নবগ্রাম পঞ্চায়েতের বাইরে শতাধিক বালতি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বালতিগুলির গায়ে রাজ্য সরকারের প্রকল্প ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’-এর নাম লেখা ছিল। বর্জ্য ফেলার জন্য এই বালতিগুলি এলাকার সাধারণ মানুষের বাড়িতে বিতরণ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালতিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তৃণমূলের পার্টি অফিসে সরকারি মালের হদিশ:
এদিকে, শ্রীরামপুরের রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বালতি ছাড়াও সাদা থান ও মশারি মজুত থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, সরকারি এই সামগ্রীগুলি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান মোহন মন্ডল ও তৃণমূল নেতা বিষ্ণু মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ।

রাজনৈতিক তরজা:
ঘটনাটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির কটাক্ষ, “বালতি বেশি থাকতেই পারে, কিন্তু সেগুলি নির্দিষ্ট সময়ে পঞ্চায়েতে জমা না দিয়ে এভাবে তছরুপের চেষ্টা কেন?” এই ঘটনার পেছনে বড়সড় কোনো দুর্নীতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শ্রীরামপুরের এই এলাকায় ত্রিপল থেকে শুরু করে বস্তা বস্তা সার এবং এখন বালতি উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই সামগ্রীগুলি কীভাবে পঞ্চায়েত দফতর থেকে পার্টি অফিসে পৌঁছালো এবং এর পেছনে মূল চক্রী কে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।