ATM-এ নেই টাকা, ক্যাশের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে কবে? কি বলছে RBI

গত কয়েক বছরে ইউপিআই (UPI) এবং ডিজিটাল পেমেন্টের দৌলতে নগদ টাকার ঝামেলা অনেকটাই কমেছে। কিন্তু এই ডিজিটাল বিপ্লবের মাঝেও এটিএম-এর সামনে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। একদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) তথ্য বলছে দেশে নগদের প্রচলন বেড়েছে, অন্যদিকে এটিএম অপারেটরদের সংগঠনের দাবি—টাকার আকালে ধুঁকছে এটিএমগুলি।

অঙ্ক কী বলছে? আরবিআই-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মে, ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ৪২.৫৬ লক্ষ কোটি টাকার ক্যাশ সার্কুলেশন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। অথচ মাঠে মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের সেই সুবিধা। কনফেডারেশন অব এটিএম ইন্ডাস্ট্রি (CATMi)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এটিএম-এ টাকা ভরার জন্য প্রয়োজনীয় নগদের অভাব প্রবল।

  • নভেম্বর ২০২৫: ক্যাশ সাপ্লাই ছিল ৮০ শতাংশ (ঘাটতি ছিল ২০ শতাংশ)।

  • মার্চ ২০২৬: ক্যাশ ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ শতাংশে।

  • এপ্রিল ২০২৬: এই ঘাটতি গিয়ে পৌঁছেছে ৪৩ শতাংশে।

কেন এটিএম এড়িয়ে চলছেন সাধারণ মানুষ? ডিজিটাল পেমেন্টের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি আরও একটি কারণ এটিএম ব্যবহারের হার কমিয়ে দিয়েছে। সিএটিএমআই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে যেখানে ৫৭ কোটি বার এটিএম থেকে টাকা তোলা হতো, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটিতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফ্রি লিমিটের বাইরে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা ফি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ এখন এটিএম ব্যবহারে অনাগ্রহী।

অপারেটরদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ এটিএম শিল্প এখন গভীর সংকটে। যাতায়াত খরচ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সিকিউরিটি গার্ডদের বেতন—সব মিলিয়ে অপারেটরদের লাভের অংক দিনে দিনে কমছে। ফলে এটিএম রক্ষণাবেক্ষণ এবং টাকা ভরার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

কী বলছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক? সমস্যাটি নিয়ে সচেতন আরপিআই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা জানিয়েছেন, বার্ষিক নগদ টাকার প্রয়োজনীয়তার হিসেব আগেভাগেই করা হয়। তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন, “যদি বাজারে সত্যিই ক্যাশের কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তবে আমরা দ্রুত তার সমাধান করব। এটিএম-এ যাতে নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”

 ডিজিটাল লেনদেন অনেক সহজ হলেও, জরুরি প্রয়োজনে হাতের কাছে নগদ টাকা না পাওয়াটা এখনও বড় মাথাব্যথার কারণ। সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে আরবিআই এবং এটিএম অপারেটররা কতটা দ্রুত সমন্বয় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।