জামিন নয়, গ্রেফতারই হতে হলো! শওকতের ফোন থেকে মিলবে বিস্ফোরণের কোন তথ্য?

ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে তদন্তের জাল আরও শক্ত করল এনআইএ (NIA)। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গ্রেফতারের সময় শওকতের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ফোনগুলি থেকে তথ্য উদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক ল্যাবে। বিস্ফোরণের পর শওকত কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং কাদের মদতে তিনি ফেরার ছিলেন, তা এই ফোন থেকেই স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রেফতারির পেছনের ‘ক্লোজ ফ্রেন্ড’ সূত্র:
এনআইএ সূত্রে খবর, গা ঢাকা দেওয়ার সময় শওকত তাঁর এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আগাম জামিনের আবেদন করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ও লোকেশন ট্র্যাক করেই শেষ পর্যন্ত কামালগাছিতে শওকতের নাগাল পান গোয়েন্দারা।
পারিবারিক দাবি বনাম তদন্তকারী সংস্থা:
এদিকে শওকতের গ্রেফতারি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শওকতের মেয়ের দাবি, “বাবা গ্রেফতার হননি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন।” যদিও এনআইএ-র দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, তদন্তের চাপ বাড়তেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন শওকত। এমনকি, সীমান্তবর্তী রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছিলেন তিনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
গত ৪ জুন শওকতের বাড়িতে হানা দিয়ে তালাবন্ধ পায় এনআইএ। এরপর তাঁর ছেলে, স্ত্রী ও মেয়েকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ছেলেকে সাময়িকভাবে আটকও করা হয়েছিল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেই গ্রেফতার করা হয় শওকতকে। আজ, শনিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে আদালতে পেশ করবে তদন্তকারী সংস্থা।
রাজনৈতিক উত্তাপ:
ভাঙড়ের এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারিতে এনআইএ-র হাতে ঠিক কত বড় ষড়যন্ত্রের তথ্য উঠে আসে, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শওকত বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আদালতে পেশের সময় তিনি কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।