‘আমি বাঁচাতে চেয়েছিলাম’, দুধের শিশুর চোখের সামনেই বিড়ালকে পিষে মারল মদ্যপ! চাঞ্চল্য জলপাইগুড়িতে

মদ্যপ অবস্থায় এক অসহায় সদ্যজাত বিড়ালছানাকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির তালতলার গদাধর কলোনিতে। অভিযুক্তের নাম হরিদাস রায়, তিনি খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র ধিক্কার ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বীভৎস বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার মদ্যপ অবস্থায় টলমলে পায়ে এলাকায় প্রবেশ করেন হরিদাস রায়। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিড়ালছানাকে দেখেই তিনি তার ওপর চড়াও হন। কোনো কারণ ছাড়াই বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে শূন্যে গোল গোল ঘোরাতে থাকেন এবং তারপর নৃশংসভাবে ড্রেনে ছুঁড়ে ফেলে দেন। উপস্থিত এলাকাবাসীরা তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তিনি উল্টে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ওই সময় বিড়ালছানাটিকে বাঁচাতে এক দুধের শিশু ছুটে গেলেও মদ্যপ ওই ব্যক্তির বিবেক নাড়া দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত হরিদাসের অমানুষিক অত্যাচারে প্রাণ হারায় বিড়ালছানাটি।

পরিবেশ কর্মীদের পদক্ষেপ:
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা। ড্রেন থেকে মৃত বিড়ালছানাটিকে উদ্ধার করেন তাঁরা। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পরিবেশ কর্মী আকাশ সরকার। তিনি বলেন, “আমরা চাই আইন মোতাবেক ওই ব্যক্তির কঠোরতম শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

এলাকাবাসীর দাবি:
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক স্থানীয় গৃহবধূ ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “চোখের সামনে এভাবে একটি প্রাণীকে পিষে মারতে দেখলাম! আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর চড়াও হয়। ওঁর কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।” অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন সরব জলপাইগুড়ির সচেতন নাগরিক সমাজ।