‘ভারতের ওপর চাপ দিলে উল্টো ফল হবে’! মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুতিন, আমেরিকাকে কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম (SPIEF)-এ দাঁড়িয়ে পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে তারা সক্ষম। ভারতের ওপর যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা চাপের চেষ্টা ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ভারতের ‘স্বাধীন বিদেশনীতি’র প্রশংসা:
পুতিন বলেন, “ভারত বরাবরই একটি স্বাধীন বিদেশনীতি অনুসরণ করে এসেছে। কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত না করে নয়াদিল্লি সবসময় নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।” ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ভারত যেভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করে তাদের দমিয়ে রাখা অসম্ভব।

সু-৫৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির আগ্রহ:
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার ভারতকে বড় প্রস্তাব দিলেন পুতিন। রাশিয়ার গর্বের ‘সু-৫৭’ (Su-57) স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা একসময় ভারতকে এই প্রকল্পের অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যদিও তা তখন বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও ভারত চাইলে আমরা তাদের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও জানান, সু-৫৭ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ফাইটার জেট, যা একই সঙ্গে কমান্ড ও কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।

আমেরিকার প্রতি ঘুরিয়ে বার্তা:
ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে সু-৫৭ বা এস-৫০০-এর মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনে, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে পুতিনের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম দেশ। তাঁদের জন্য কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ভারতেরই রয়েছে। অন্য কোনো দেশের তা নির্ধারণ করার প্রয়োজন নেই।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের এই মন্তব্য কার্যত মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার সমান। ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যে কেবল কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা আবারও প্রমাণ করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।