তৃণমূলে বড় রদবদল: নতুন রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা, অভিষেকের ক্ষমতায় কোপ!

ভরাডুবি ও অভ্যন্তরীণ ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে অবশেষে সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটে দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির দীর্ঘ বৈঠকে পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন করে সাজানো হলো ঘাসফুল শিবিরের সংগঠন। এই রদবদলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সুব্রত বক্সির অপসারণ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক ক্ষমতায় কাটছাঁট।

কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব? বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলের সর্বভারতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকলেও, তাঁর ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে সর্বভারতীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। রাজ্যের প্রেক্ষাপটে:

  • রাজ্য সভানেত্রী: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (সুব্রত বক্সির স্থলাভিষিক্ত)।

  • যুব সভানেত্রী: সায়নী ঘোষ।

  • মহিলা সভানেত্রী: মালা রায়।

  • টিএমসিপি (ছাত্র পরিষদ): প্রিয়াঙ্কা অধিকারী।

  • মুখপাত্র: কুণাল ঘোষ।

সংগঠনকে মজবুত করতে আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র দায়িত্বে মলয় ঘটক, হকার সংগঠনের দায়িত্বে মদন মিত্র এবং লিগ্যাল সেলে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতিদের নাম আগামী সাত দিনের মধ্যে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই চূড়ান্ত করবেন বলে জানানো হয়েছে।

বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কল্যাণ বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানান কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার এবং নির্বাচনোত্তর হিংসার বিরুদ্ধে তৃণমূল এবার থেকে আইনি ও রাজনৈতিক—উভয় পথেই লড়াই করবে। পাশাপাশি, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পিটিশন ফাইল করার কথাও জানান তিনি।

সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ সাংসদদের দলবদল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের মুখে এদিন মেজাজ হারান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “চিৎকার করলেই সাংবাদিকতা হয় না। ১৮ জনের নাম দিন, তবেই কথা বলব। নতুবা আজেবাজে গল্প শুনিয়ে প্রেশার বাড়াবেন না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদলের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন যে, দলের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের রাশ এখন পুরোপুরি তাঁর হাতেই। পুরোনো ও নতুন মুখের ভারসাম্যে কোণঠাসা তৃণমূল কি পারবে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে? উত্তর মিলবে আগামী দিনে।