তৃণমূলের অন্দরে বড় ফাটল! অভিষেক-বিরোধী ২৩ সাংসদের বিদ্রোহী শিবিরের সাথে যোগাযোগ?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল জাতীয় সংসদেও। ‘ইন্ডিয়া টুডে টিভি’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দলের প্রায় ২৩ জন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে দলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই পরিস্থিতিতে সংসদের অন্দরমহলে তৃণমূলের বড় ধরনের বিভাজনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

সাংসদদের অসন্তোষের কারণ কী? দলীয় সূত্রের খবর, সংগঠনের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের ধরন নিয়ে একাধিক সাংসদ ক্ষুব্ধ। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, সেই হাওয়া এখন লোকসভাতেও লেগেছে। লোকসভার এক ডজনেরও বেশি সাংসদ ইতিমধ্যে একটি আলাদা গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে কে রয়েছেন, তা নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আইনি জটিলতা ও সমীকরণ: তৃণমূলের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জের কারণ—দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, সংসদে আলাদা গোষ্ঠীর মর্যাদা পেতে লোকসভায় কমপক্ষে ২২ জন সাংসদের প্রয়োজন। তৃণমূলের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২৯, ফলে ২৩ জন সাংসদ দল ছাড়লে আইনত তারা সহজেই নতুন গোষ্ঠী বা দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যেতে পারেন। রাজ্যসভার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৯। প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের কথায়, “বিধানসভায় ৬০ জন বিধায়কের দলত্যাগের মতো পরিস্থিতি লোকসভাতেও তৈরি হতে পারে।”

মমতার মরিয়া চেষ্টা: এই রাজনৈতিক মহাপ্রলয় ঠেকাতে আসরে নেমেছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগঠনকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করছেন। বিশেষ করে হাওড়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের বিধায়কদের মানভঞ্জনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, দিল্লিতে সংসদীয় পরিস্থিতি সামাল দিতেও প্রবীণ নেতারা তদ্বির শুরু করেছেন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য: সাংসদদের বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, “আগামীকাল কী হবে কেউ বলতে পারে না। ধৈর্য ধরুন, অনেক কিছুই ঘটতে পারে।”

২৮ বছরের ইতিহাসে তৃণমূলের সামনে এটাই এখন সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অগ্নিপরীক্ষা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন এই ভাঙন রুখে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে? উত্তর দেবে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাক্রম।