বিধানসভার পর এবার দিল্লি দখল? ঋতব্রতর লক্ষ্যে লোকসভা, তৃণমূলে ভাঙন কি সময়ের অপেক্ষা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঐতিহাসিক ফাটলের পর এবার কি দিল্লি দখলের লড়াই শুরু করতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা? রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিদ্রোহ এবার জাতীয় স্তরে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় নিজেদের শক্তি প্রমাণ করার পর, ঋতব্রতদের পরবর্তী লক্ষ্য এখন লোকসভার অন্দরমহল।

দিল্লি জয়ে কতজন সাংসদ প্রয়োজন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলের নাম এবং প্রতীকের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার সাব্যস্ত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন। ঋতব্রতদের লক্ষ্যপূরণের জন্য অন্তত ২০ জন বা তার বেশি সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। যদি এমনটা ঘটে, তবে সংসদীয় রাজনীতিতে অভিষেকের কর্তৃত্ব কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

মমতা ‘অভিভাবক’, লক্ষ্য কেবল অভিষেক! তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিদ্রোহী শিবির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মুখ খুলছেন না। উল্টে তাঁরা দাবি করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা দলের ‘মূল পরামর্শদাতা’ হিসেবেই দেখতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে অভিষেকের একচ্ছত্র নেতৃত্বকে অস্বীকার করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। বিধানসভার পরিষদীয় দলের ওপর অভিষেকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দাবি করেছেন ঋতব্রতরা।

সাংসদদের শিবিরে ভাঙনের ইঙ্গিত? লোকসভায় ইতিমধ্যেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার-সহ বেশ কয়েকজন। যদি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী সংসদীয় স্তরেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে, তবে তা কেবল তৃণমূল নয়, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের ভূমিকাকেও বড় ধরনের সংকটে ফেলবে। একদিকে সংগঠন নতুন করে সাজানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে মূল নেতৃত্ব, অন্যদিকে বিদ্রোহীদের এই ‘দিল্লি চলো’ স্লোগান দলের কর্মীদের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর বিভ্রান্তি।

আগে কী ঘটেছে? বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে টানাপোড়েন এবং তার পরবর্তী বহিষ্কারের ঘটনা—সব মিলিয়ে গত ৭২ ঘণ্টায় তৃণমূলের অন্দরে কার্যত সুনামি বয়ে গিয়েছে। বিধানসভার এই অভাবনীয় সাফল্য কি সংসদীয় লড়াইয়েও বজায় রাখতে পারবেন ঋতব্রতরা? নাকি মূল নেতৃত্বের পাল্টা চালে এই বিদ্রোহ ধামাচাপা পড়ে যাবে? সব জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ।