বেজিং যাওয়ার আগে কেন কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী? প্রকাশ্যে এল আসল কারণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে বেরোচ্ছেন তারেক রহমান। কূটনৈতিক মহলের সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের প্রথম গন্তব্য হিসেবে তিনি বেছে নিলেন মালয়শিয়াকে। আগামী ২১-২২ জুন তিনি কুয়ালালামপুর সফর করবেন।

কূটনৈতিক কৌশলে মালয়শিয়া:
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এবং চিন—এই দুই মহাশক্তির কৌশলগত প্রতিযোগিতার আবহে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে মালয়শিয়াকে প্রথম সফরের জন্য নির্বাচন করেছে। ভারত বা চিন—কোনো এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ার ‘ট্যাগ’ এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ‘নিরপেক্ষ’ ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ। বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত ও চিনের সাথে ভারসাম্য:
এর আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রবল চর্চা ছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে তারেক রহমানের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে সীমান্তে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবং সম্পর্ক পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে তিনি আরও কিছুটা সময় নিতে চাইছেন।

অন্যদিকে, মালয়শিয়া সফরের পরই ২৩ জুন চিনে যাওয়ার কথা রয়েছে তারেকের। বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। পরিকাঠামো উন্নয়ন ও তিস্তা জলবন্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিনের সক্রিয় সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে বেজিং পাড়ি দিচ্ছেন তিনি।

কেন মালয়শিয়া?
মালয়শিয়া সফরের মাধ্যমে তারেক রহমান মূলত আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দিলেন। মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে মালয়শিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সেখানে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এক বড় পরীক্ষা। ভারত ও চিনের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখাই এখন বিএনপির সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।