১,৫১,৫০,০০,০০,০০,০০০ দুর্নীতি! শেয়ার বাজারে বড়সড় ধাক্কা, রাজেশ এক্সপোর্টসের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা SEBI-র

ভারতের শেয়ার বাজারের অন্যতম ‘সাকসেস স্টোরি’ হিসেবে পরিচিত Rajesh Exports-এর বিরুদ্ধে উঠল ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার ভয়াবহ আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই দালাল স্ট্রিটে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে সংস্থাটি এবং তার প্রোমোটার তথা চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতাকে শেয়ার বাজারে কেনাবেচা ও সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ থেকে নিষিদ্ধ করেছে ভারতের শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI।

কীভাবে ফাঁস হলো ১৫ লক্ষ কোটির জালিয়াতি?
২০২৪ সালের মার্চ মাসে সংস্থার শেয়ারহোল্ডাররা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ দিন ধরে পাওনা টাকা মিলছে না। এরপরই অক্টোবর মাসে SEBI ফরেন্সিক অডিটর BDO-কে দিয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা কল্পনাকেও হার মানায়।

জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দু:

আয়ের বিকৃত তথ্য: ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে সংস্থার ঘোষিত বিক্রয়লব্ধ আয়ের প্রায় ৯৭-৯৯ শতাংশই আসত বিদেশের সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের Valcambi SA-র ভূমিকা ছিল প্রধান। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, সংস্থার দেখানো আয়ের সঙ্গে সহযোগী সংস্থাগুলির নথিবদ্ধ আয়ের বিশাল গরমিল রয়েছে। এই ব্যবধানই ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

ভুয়া লেনদেন: ‘অ্যাফ্লুয়েন্স শেয়ার অ্যান্ড স্টকস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের কথা Rajesh Exports-এর নথিতে থাকলেও, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি সরাসরি জানিয়ে দেয় যে, রাজেশ এক্সপোর্টস তাদের কখনও গ্রাহকই ছিল না।

তহবিলের অপব্যবহার: অভিযোগ, সংস্থার তহবিল থেকে টাকা সরিয়ে রাজেশ মেহতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হয়েছিল, যা পরে ‘পার্সোনাল ডেরিভেটিভ ট্রেডিং’-এ ব্যবহার করা হয়।

আফ্রিকায় বিনিয়োগের রহস্য: আফ্রিকার একটি স্বর্ণখনিতে ১,০৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের দাবি করলেও, সংস্থাটি তার স্বপক্ষে কোনো বৈধ নথি বা সম্পদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারেনি।

তদন্তে বাধা:
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, Rajesh Exports তদন্তে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেনি। ভেন্ডারদের তালিকা থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড—সবই দিতে অস্বীকার করে সংস্থাটি। এই অসহযোগিতাই জালিয়াতির সন্দেহে সিলমোহর দেয়।

বাজারে প্রভাব:
SEBI-র নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবারই বাজারে Rajesh Exports-এর শেয়ার দরে ৫ শতাংশ পতন ঘটে। বর্তমানে তদন্তাধীন থাকা এই ঘটনাটি ভারতের কর্পোরেট ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম জালিয়াতি হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।