TMC-র সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেই বড় ধস! বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন ১৭ মুসলিম বিধায়ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক সবসময়ই তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল। পরিসংখ্যান বলছে, তৃণমূলের জেতা ৮০টি আসনের মধ্যে ৭৩টিই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর সেই ভোটব্যাঙ্ক ও দলের অন্দরের সংখ্যালঘু বিধায়কদের আনুগত্য—উভয়ই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হওয়ার পথে।

বিদ্রোহী শিবিরে সংখ্যালঘু বিধায়কদের দাপট তৃণমূলের টিকিটে জেতা ৩৪ জন মুসলিম বিধায়কের মধ্যে ১৭ জনই বর্তমানে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মমতার পছন্দকে সরাসরি অগ্রাহ্য করে তারা ৫৮ জন বিধায়কের যে নতুন গোষ্ঠী তৈরি করেছেন, তাতে সংখ্যালঘু নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তালিকায় রয়েছেন জাভেদ খান (উপ-বিরোধী দলনেতা), আখরুজ্জামান (মুখ্যসচেতক), সাবিনা ইয়াসমিন, গোলাম রব্বানী এবং আখেরুজ্জামানের মতো হেভিওয়েট নেতারা। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের মন্ত্রিসভায় থাকা চারজন সংখ্যালঘু মন্ত্রী সরাসরি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে।

মুর্শিদাবাদে মমতা-বিমুখ বিধায়করা সবথেকে উদ্বেগের ছবি ধরা পড়ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। জেলার ৯ জন সংখ্যালঘু বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঋতব্রতর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সাগরদিঘির বিতর্কিত বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসও। রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা পরিষদীয় দলের বৈঠকে মুর্শিদাবাদ থেকে একজন বিধায়কও উপস্থিত না হওয়ায়, বৈঠকটি কোরামের অভাবে বাতিল করতে হয়। একসময়ের যে বিধায়করা দলনেত্রীর ডাক পাওয়ার জন্য মরিয়া থাকতেন, আজ তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংশ্রবও এড়াচ্ছেন।

ভোটব্যাঙ্কের বাস্তব চিত্র তৃণমূলের জন্য এই বিদ্রোহের সংকেত আরও ভয়ংকর, কারণ ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট ছিল যে সংখ্যালঘু ভোটাররা এখন আর কেবল শাসকদলের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলতার পুনর্নির্বাচনে তৃণমূলের জামানত জব্দ হওয়া এবং এবারের বিদ্রোহী বিধায়কদের তালিকা প্রমাণ করছে যে, ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ‘স্থায়ী সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক’ নিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন, সেই জমিতেই এখন বড়সড় ফাটল ধরেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু বিধায়কদের এই বিদ্রোহ কেবল বিধানসভার সংখ্যার খেলা নয়, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ রাজনীতির ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। মুর্শিদাবাদের মতো শক্ত ঘাঁটিতে মমতার এই একা হয়ে পড়া তৃণমূলের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় বিপদের ঘণ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।