মহারাষ্ট্রে ‘মহাযুতি’তে ফাটল? বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন শিবসেনা নেতা!

মহারাষ্ট্রের আসন্ন বিধান পরিষদ (MLC) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক জোট ‘মহাযুতি’-র অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি। শিবসেনার প্রবীণ নেতা তথা ক্যাবিনেট মন্ত্রী গুলবরাও পাতিল প্রকাশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। তার দাবি, জোটের বড় দল হিসেবে বিজেপির উচিত ছোট শরিকদের দাবিয়ে না রেখে তাদের প্রতি সুবিচার করা।
মূল বিরোধের জায়গা কোথায়?
আসন্ন ১৮ই জুনের এমএলসি নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার মতপার্থক্য চরমে পৌঁছেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী:
আসন বন্টন: শিবসেনা অন্তত ৬টি আসনের দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু জোটের সমীকরণে তাদের মাত্র ৪টি আসন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী প্রার্থী: শিবসেনার যেসব আসনে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী রয়েছে, সেখানেই বিজেপির বিদ্রোহী নেতারা নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। যা নিয়ে শিবসেনা নেতৃত্বের মনে প্রবল ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
গুলবরাও পাতিলের কড়া বার্তা
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গুলবরাও পাতিল সাফ জানিয়েছেন, “বিজেপির উচিত তাদের কর্মীদের বুঝিয়ে মহাযুতির অনুমোদিত প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করা এবং বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা।” তিনি উদাহরণ হিসেবে নিজের দলের নেতা আব্দুল সাত্তারের ছেলের নাম উল্লেখ করেন, যিনি একনাথ শিন্ডের পরামর্শে শেষ মুহূর্তে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শিবসেনার দাবি, বিজেপির বিদ্রোহী নেতাদেরও একইভাবে সরে দাঁড়ানো উচিত।
বিজেপির পাল্টা দাবি
অন্যদিকে, বিজেপির ক্যাবিনেট মন্ত্রী রবীন্দ্র চবন বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে, মহাযুতি জোট সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। বুধবার ১৭ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে লড়ছি। বিরোধী শিবিরের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যা এবং সুনির্দিষ্ট রণকৌশল নেই। আমাদের জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭টি আসনেই জয়লাভ করবে।”
আজই শেষ সময়
আজ, বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। মহাযুতির অন্দরে চলতে থাকা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে শেষ পর্যন্ত কয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী নিজের নাম তুলে নেন, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। ১৮ই জুন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেখার বিষয়, বড় শরিক বিজেপি এবং ছোট শরিক শিবসেনার এই মনোমালিন্য ভোটের ফলে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।