‘দাউদ ইব্রাহিম নিজে একজন বুকি!’ প্রাণনাশের হুমকি ও আইপিএল নিয়ে বিস্ফোরক ললিত মোদী

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর জনক ললিত মোদী দীর্ঘ সময় পর ভারত ছাড়ার কারণ ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে তাঁর সংঘাত নিয়ে মুখ খুললেন। এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ললিত দাবি করেছেন, আইপিএলে জুয়াড়িদের রুখে দেওয়ার কারণেই তিনি ‘ডি কোম্পানি’ বা দাউদ ইব্রাহিমের চক্রের রোষানলে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই অপরাধী চক্রের হুমকির কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি ক্রিকেট প্রশাসন থেকে পাকাপাকিভাবে অবসর নিতে বাধ্য হন।
আইপিএল ও বাজির বাজারের বিশাল অঙ্ক:
ললিত মোদীর দাবি, আইপিএলের শুরুর দিকে স্পট-ফিক্সিং ও বাজি ধরার সাম্রাজ্য দাউদ ইব্রাহিমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাঁর কথায়, “তখন অবৈধ বাজির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা আজ প্রতি ম্যাচে ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এখন আর পুরো ম্যাচ ফিক্সিং নয়, বরং বল বা ওভার ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে বুকিরা কারচুপি করে।” ললিতের দাবি, মাঠে রুমাল বের করা বা কিছু ঘষার মতো সংকেতের মাধ্যমেই বুকিরা ফিক্সিংয়ের সংকেত আদান-প্রদান করত।
দাউদের সঙ্গে কথোপকথন ও জীবনের হুমকি:
সাক্ষাৎকারে ললিত মোদী একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার উল্লেখ করেছেন:
গোপন বৈঠক: লন্ডনের এক প্রভাবশালী দালাল ‘বাবা’ তাঁকে গভীর রাতে নিজের পেন্টহাউসে ডেকে পাঠান।
সরাসরি দাউদের ফোন: ললিতের দাবি, ওই দালাল দাউদ ইব্রাহিমকে স্পিকার মোডে ফোন করে ললিতের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে দাউদ তাঁকে ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করে সব বিবাদ মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ললিত সেই প্রলোভন ও হুমকি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
নিরাপত্তাহীনতা: ললিত আরও জানিয়েছেন, মুম্বইয়ে তাঁর বাড়ির বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। জোহানেসবার্গ ও মন্টেনিগ্রোতেও তাঁকে আক্রমণ করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এমনকি, লন্ডনের স্লোন স্ট্রিট থেকে তাঁর ছেলেকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়েছিল।
কেন সরে এলেন ক্রিকেট থেকে?
আইপিএল দ্বিতীয় মরসুম দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়ায় বাজিকরদের বিপুল লোকসান হয়েছিল। ললিতের কথায়, সেই লোকসানের দায়ভার তাঁর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড। শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে ও নিজেকে এই অশুভচক্র থেকে দূরে রাখতে তিনি ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ললিত জানিয়েছেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম সদস্য ছোটা শাকিল প্রকাশ্যে জানিয়েছিল যে, ললিতের সঙ্গে তাদের বিরোধ মিটে গেছে—এর মূল কারণই ছিল ললিতের ক্রিকেট থেকে চিরতরে সরে আসার প্রতিশ্রুতি।
ললিত মোদীর এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের এক অন্ধকার দিককে নতুন করে সামনে নিয়ে এল। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহলে ফের একবার শোরগোল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।