‘বিজ্ঞান না অন্ধবিশ্বাস?’ হোমিওপ্যাথি প্রমোট করে নেটিজেনদের তোপের মুখে অভিনেত্রী অনুষ্কা

আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) ঐতিহাসিক জয়ের পর স্বামী বিরাট কোহলির সঙ্গে ‘ভিক্টরি ড্যান্স’ করে অনুরাগীদের মন জয় করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের কারণে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী। বুধবার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিকে সমর্থন জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করার পর থেকেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে প্রবল সমালোচনা।
ঠিক কী পোস্ট করেছেন অনুষ্কা?
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন অনুষ্কা। সেই ভিডিওতে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার রাজন শঙ্করন এবং এন্টারপ্রেনিয়র নমিতা থাপরকে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর ক্যাপশনে অনুষ্কা লিখেছেন, “হোমিওপ্যাথি আমার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ডাঃ রাজন শঙ্করন সেই যাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর স্বাস্থ্য ও সচেতন জীবনযাপন সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিকে আমি সম্মান করি।”
কেন শুরু হলো বিতর্ক?
অনুষ্কার এই পোস্টের পরেই ইন্টারনেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একদল অনুরাগী তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও, নেটিজেনদের একটি বড় অংশই অভিনেত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বিশেষ করে, যে সব ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার প্রয়োজন, সেখানে এই ধরনের বিকল্প চিকিৎসাকে প্রমোট করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া:
দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন: জনৈক নেটিজেন লিখেছেন, “অনুষ্কা, আপনাকে লাখ লাখ মানুষ ফলো করে। বিশ্বাস বা অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে যারা সঠিক চিকিৎসা থেকে সরে আসেন, তাদের ক্ষেত্রে আপনার এই প্রচার বিপজ্জনক হতে পারে।”
বিপদ সংকেত: সোশ্যাল মিডিয়ায় অপর এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সেলিব্রিটিদের থেকে এমন পোস্ট আশা করি না। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক ওষুধ না পাওয়ার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে, সেখানে এমন প্রচার করা দুঃখজনক।”
ক্যান্সারের মতো রোগ নিয়ে আশঙ্কা: একজন লিখেছেন, “ক্যান্সারের মতো গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যদি কেউ হোমিওপ্যাথির ওপর ভরসা করে, তবে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে। অনুষ্কার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।”
তবে এই বিতর্ক নিয়ে এখনো পর্যন্ত অভিনেত্রী বা তাঁর টিমের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা। একদলের মতে, স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, আবার অন্যদলের দাবি, সেলিব্রিটি হওয়ার সুবাদে জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে প্রচার করার আগে আরও সতর্ক হওয়া জরুরি ছিল।