অফিসে দেরিতে এলেই বিপদ! সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন

সরকারি কাজে গতি ফেরাতে এবং নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকর করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। অফিসে উপস্থিতির হার ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি দফতরকে নবান্নের তরফে নতুন নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এখন থেকে অফিসের সময় নিয়ে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?

সময়সীমা: সকাল ১০টার মধ্যে প্রতিটি কর্মীকে তাদের নির্দিষ্ট কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

‘লেট অ্যাটেনডেন্স’: নির্দিষ্ট সময়ের পর অফিসে প্রবেশ করলে তা ‘লেট অ্যাটেনডেন্স’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। এমন ঘটনা বারবার ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়োমেট্রিক নজরদারি: কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি খতিয়ে দেখতে বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতেই দেরিতে আসার বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হবে।

জবাবদিহিতা: বিশেষ করে যেসব দফতরে সাধারণ মানুষ সরাসরি পরিষেবা নিতে যান, সেখানে সময়মতো কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মীদের দেরিতে আসা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রচুর অভিযোগ জমা পড়ছিল। কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা এবং পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি দূর করতেই নবান্ন এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের মতে, সরকারি কর্মীদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য।

ছাড়ের সুযোগ থাকবে কি?
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অসুস্থতা, জরুরি পারিবারিক সমস্যা বা কোনো বিশেষ ও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে উপযুক্ত নথিপত্র জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ছাড় পাওয়া যাবে।

কর্মচারী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করছে, কর্মীদের যাতায়াত বা দৈনন্দিন বাস্তব সমস্যার বিষয়গুলোও বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে যারা দূরপাল্লার ট্রেন বা বাস ব্যবহার করে প্রতিদিন অফিসে আসেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এখন দেখার বিষয়, নবান্নের এই কড়া নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর সরকারি অফিসগুলোতে উপস্থিতির হার ও কাজের গতি কতটা বৃদ্ধি পায়।