তৃণমূলের অন্দরে চরম ভাঙন! বিধানসভার পর কি এবার লোকসভাতেও বড় ধাক্কা?

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের ঘনঘটা। দলের একাংশের ভূমিকা এবং সংসদীয় টিমের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। একদিকে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া, অন্যদিকে লোকসভায় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সাংসদদের একাংশের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

বিধানসভায় নজিরবিহীন ভাঙন
রাজ্যের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়—বিধানসভার বিরোধী দলনেতার আসনে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসা। সূত্রের খবর, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই এখন ঋতব্রত শিবিরে। স্পিকার রথীন্দ্র বসু এই পরিবর্তনকে অনুমোদন দেওয়ায় কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে রাজ্যের শাসক দল। বিদ্রোহীদের দাবি, তাঁদের এই লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অবিচল থেকেই, তবে তৃণমূলের বর্তমান ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব তাঁরা মানতে নারাজ।

লোকসভায় অস্থিরতা
বিধানসভার ঘটনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দিল্লির সংসদীয় আঙিনাতেও। সূত্রের খবর, দলের সংসদীয় টিমের একাংশ শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংসদদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে বলে খবর। লোকসভার দলনেতা হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দিল্লিতে জল্পনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলী ঘোষ দস্তিদারের প্রকাশ্য কাজিয়া দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে প্রকাশ্যে এনেছে। কাকলী ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানানোয় চিফ হুইপ কল্যাণের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব চরম আকার নিয়েছে।

আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ
এই পরিস্থিতিতে লোগোর অধিকার এবং দলের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূল অংশটি বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আইনজীবীদের পরামর্শ নিতে শুরু করেছে। ৮ জুন দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং শীর্ষ স্তরের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও এনসিপি-র আইনি লড়াইয়ের আদলে তৃণমূলও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে।

সংসদের আসন্ন অধিবেশনগুলোতে ডিলিমিটেশন বিল এবং ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ সংক্রান্ত বিলের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের এই ভাঙন বা অনৈক্য কতটা ভয়াবহ আকার নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। দলের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত কী কৌশল নেন, সেটিই এখন দেখার।