পুরনিগমে ধরপাকড়! ২ দিনে ৩ তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার, তোলাবাজির অভিযোগে কাঁপছে কলকাতা

কলকাতা পুরনিগম চত্বরে যেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। একের পর এক তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। বুধবার বড়বাজার থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশকুমার শর্মা। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি তৃতীয় গ্রেপ্তারি, যা শহরজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে প্রবল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

কেন গ্রেপ্তার মহেশকুমার শর্মা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বড়বাজার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পোস্তার কটন স্ট্রিটের বাসিন্দা এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সরকারি কাজে বাধা, তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি—এমনই সব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

টানা গ্রেপ্তারের তালিকায় কারা?
শুধুমাত্র মহেশকুমার শর্মা নয়, গত দুই দিনে পুরনিগমের অন্দরে গ্রেপ্তারের ধারা অব্যাহত:

মহেশকুমার শর্মা (৪২ নম্বর ওয়ার্ড): তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে বুধবার ধৃত।

অরিজিৎ দাস ঠাকুর (১০৬ নম্বর ওয়ার্ড): মঙ্গলবার রাতে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে কাটমানি ও তোলাবাজি চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

সচিন সিং (৩৬ নম্বর ওয়ার্ড): নারকেলডাঙা থানা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লে। এরপর থেকেই পুরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুলিশি নজরদারি ও তদন্তের গতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

কী বলছে পুলিশ?
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, আরও বেশ কিছু অভিযোগের নথি যাচাই করা হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে এই গ্রেপ্তারের তালিকা আরও দীর্ঘ হয় কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

একের পর এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারি শহরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও তৃণমূলের দলীয় ভাবমূর্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।