রেকর্ড গড়ে উত্তাল ভারতের অর্থ বাজার! ঋণের তীব্র চাহিদা মেটাতে হিমশিম ব্যাঙ্কগুলি

ভারতীয় অর্থনীতিতে ঋণের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। আর এই প্রবল চাহিদার ধাক্কায় দেশের অর্থ বাজারে লেনদেনের পরিমাণ নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলোর লাগাতার তহবিল সংগ্রহের প্রয়াসই বাজারকে এই উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
৫.৫ লক্ষ কোটির রেকর্ড লেনদেন
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে ট্রাই-পার্টি রেপো (TREPS) বিভাগে লেনদেনের পরিমাণ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, এই একটি বিভাগই ভারতের মোট অর্থ বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা বজায় থাকায় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।
কেন এই বিপুল চাহিদা?
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর চেয়ারম্যান সিএস শেঠির মতে, বর্তমানে বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের জোয়ার এসেছে। এই ক্ষেত্রগুলিতে বড় আকারের মূলধন প্রয়োজন হওয়ায় ব্যাঙ্কগুলোর ওপর তহবিলের চাপ তৈরি হয়েছে।
আমানতের আকাল ও ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি
ব্যাঙ্কগুলোর জন্য মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমানত। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রচলিত ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের বদলে এখন মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ার বাজার এবং অন্যান্য বিকল্প বিনিয়োগের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ কণিকা পসরীচার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থ বাজারই ব্যাঙ্কগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহের সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী উৎস হয়ে উঠেছে। এর ফলে রাতারাতি ঋণ গ্রহণের খরচ ও স্বল্পমেয়াদী বন্ডের মুনাফাও বেড়েছে।
তালিকায় ঋণের দ্রুততম বৃদ্ধি
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে পর্যন্ত এক বছরে ব্যাঙ্ক ঋণ ১৬.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে দ্রুততম। উদ্বেগের বিষয় হলো, টানা আট মাস ধরে আমানত সংগ্রহের তুলনায় ঋণের চাহিদা অনেক বেশি। বর্তমানে ঋণ ও আমানতের বৃদ্ধির মধ্যে ব্যবধান বেড়ে প্রায় ৪০০ বেসিস পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, যদি ঋণের চাহিদা একইভাবে শক্তিশালী থাকে এবং আমানত সংগ্রহের গতি মন্থর হয়, তবে আগামী মাসগুলোতে অর্থ বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে।