মমতার ব্যবহৃত চেয়ারে বসতে নারাজ ঋতব্রত! বদলে চাইলেন সূর্যকান্ত মিশ্রের চেয়ার, বিধানসভায় শোরগোল

রাজনীতিতে চেয়ারের গুরুত্ব যে কতটা, তা আবারও প্রমাণিত হলো বুধবার বিধানসভায়। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার সময় উঠে এল এক অভিনব ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের ব্যবহৃত চেয়ারে বসতে কার্যত অনীহা প্রকাশ করলেন নবনির্বাচিত বিরোধী দলনেতা।
মমতার চেয়ারে বসতে নারাজ ঋতব্রত
বিধানসভায় বিরোধী দলের কক্ষে প্রবেশের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে পারেন যে চেয়ারটি তাঁর জন্য রাখা হয়েছে, সেটি এতদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করতেন। তা জানার পরই তিনি সেটি বদলানোর জন্য বিধানসভার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নির্দেশ দেন। মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে সম্মান জানানোর কথা বললেও, তাঁর ব্যবহৃত চেয়ারে বসা নিয়ে ঋতব্রতর এই অনীহা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
সূর্যকান্ত মিশ্রের চেয়ারের খোঁজে
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পছন্দের চেয়ার হিসেবে বাম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের চেয়ারটি চেয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে সূর্যকান্ত মিশ্র যে চেয়ারটি ব্যবহার করতেন, সেটিই এখন পেতে চান ঋতব্রত। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন? তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা।
নতুন দায়িত্বে নতুন সুবিধা
এদিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা এবং বিশেষ গাড়ির সুবিধা পেতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে চিফ হুইপ হিসেবে আকরুজ্জামানও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন।
রাজনৈতিক পটভূমি
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরুর পর, বিধানসভার অন্দরমহলের এই ‘চেয়ার-রাজনীতি’ বুঝিয়ে দিচ্ছে, শাসকদল থেকে বেরিয়ে আসা এই নতুন ব্লকটি এখন মমতার ছায়া থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে মরিয়া। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রতর এই অবস্থান আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে কতটা উত্তাপ ছড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।