OMG! অ্যাকোয়ারিয়ামের ১০ লাখ লিটার জল রাজপথে, মৃত ১৫০০ প্রজাতির বিরল মাছ

হোটেল লবিতে বিশাল অ্যাকোয়ারিয়ামে ছিল বিভিন্ন অঞ্চলের নানা প্রজাতির রকমারি মাছ। তবে আচমকা সেটি ভেঙে খানখান হলে হোটেলের মেঝে ভেসে যায় জলে । সেই জলে ধুইয়ে নিয়ে গেল আসবাবপত্র। গড়িয়ে রাজপথে গেল দেড় হাজার প্রজাতির বিরল মাছ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্লিনের রেডিসন ব্লু হোটেলের একটি ভবনের ভেতর সংরক্ষিত ছিল অ্যাকোয়ারিয়ামটি। এর পাশেই ছিল একাধিক ক্যাফে। অ্যাকোয়ারিয়ামটি ফেটে যাওয়ার পর জলে ভাসলো আশপাশের জায়গা। এছাড়া ভবনের ভেতর কাচের টুকরো ও অন্যান্য আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
এটিকে বলা হতো বিশ্বের বৃহত্তম ‘সিলিন্ড্রিক্যাল অ্যাকোয়ারিয়াম’। সেখানে থাকত অন্তত দেড় হাজার প্রজাতির বিরল মাছ।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জার্মানির রাজধানী শহর বার্লিনের নামি হোটেলে থাকা সেই অ্যাকোয়ারিয়াম ভাঙে। অ্যাকোয়ারিমের মাছও ছড়িয়ে পড়ে শহরের রাজপথে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০০ প্রজাতির মাছ মারা গিয়েছে।
১৬ ফুটের এ অ্যাকোয়ারিয়াম ক ভাবে ভেঙেছে তা নিয়ে সবাই বিস্মিত। অ্যাকোয়ারিয়ামে জল ছিল ১০ লাখ লিটারেরও বেশি। অ্যাকোয়ারিয়াম ভাঙায় ভেসে যায় রঙিন সব মাছ! কীভাবে এ কাণ্ড হলো, তা জানেন না হোটেল কর্তৃপক্ষ।
অ্যাকোয়ারিয়াম ভেঙে যাওয়ার এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বার্লিনের দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অ্যাকোয়ারিয়ামটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গিয়েছে।
বার্লিন পুলিশ জানায়, বিখ্যাত এ অ্যাকোয়ারিয়ামের তো ক্ষতি হয়েছে, মারা গিয়েছে অ্যাকোয়ারিমের সব মাছ। তাছাড়া এ অ্যাকোয়ারিয়াম ভেঙে কাচের টুকরোয় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই পথচারী। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
অ্যাকোয়ারিয়ামের হাজার হাজার গ্যালন মাছ ভর্তি জল কার্যত প্লাবিত হয় হোটেলের আশপাশের রাস্তা। অ্যাকোয়ারিয়াম ভেঙে পড়ায় সমস্যায় পড়েন হোটেলে আসা অতিথিরাও। জলে ভাসতে থাকে পুরো হোটেল। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ অতিথিকে েঐ হোটেল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কাছাকাছি অন্য একটি হোটেলে জায়গা করে দেওয়া হয়।
বিখ্যাত ‘বার্লিন সি লাইফ’ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না আপাতত। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে মর্মাহত। হোটেল কর্তৃপক্ষ এ মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দুর্ভাগ্যবশত হোটেল এখন বন্ধ থাকছে।
কীভাবে যে ভেঙে পড়ল এ বিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম তা নিয়ে সবাই দ্বন্দ্বে রয়েছে। শহরের মেয়র বলেন, সকালে এ দুর্ঘটনা হয়েছে। না হলে অনেকে হতাহত হতে পারতো। কারণ, জল আটকে রাখা যাচ্ছিল না।
অন্যদিকে, ৪০০-৫০০ মতো ছোট মাছকে আর একটি অ্যাকোয়ারিয়ামে রাখা হয়েছে। তবে তারাও বাঁচবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সাল থেকে এ অ্যাকোয়ারিয়াম-দর্শন বন্ধ ছিল। সংস্কারের কাজ হচ্ছিল তিন বছরের বেশি সময় ধরে। কিন্তু ১৮ মাস পর অ্যাকোয়ারিয়াম খুলতেই বিপত্তি। এতে বিপুল ক্ষতির মুখে ঐ হোটেল কর্তৃপক্ষ।