সম্পত্তি মামলায় বড় স্বস্তি অভিষেকের! কলকাতা পুরনিগমের নোটিশ বাতিল হাইকোর্টের, নির্দেশ নতুনের

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার এবং তাঁদের কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’। বাড়ির ও কোম্পানির সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিশকে ‘অসম্পূর্ণ’ এবং ‘পদ্ধতিগত ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে আদালত। বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র বেঞ্চ এই বিষয়ে পুরনিগমকে নতুন করে নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ

আজকের শুনানিতে বিচারপতি পুরনিগমের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাতে সম্পত্তির কোন অংশ বেআইনি তা স্পষ্ট নয় কেন? এছাড়া নোটিশের সাথে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত না থাকায় তা অসম্পূর্ণ বলে আদালত মনে করছে। আদালতের নির্দেশানুসারে:

  • নতুন নোটিশ: আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরনিগমকে নতুন করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পিড পোস্টে নোটিশ পাঠাতে হবে।

  • স্পষ্টতা: সেই নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে বাড়ির বা সম্পত্তির কোন অংশ অবৈধ।

  • জবাবের সময়: নোটিশ পাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উত্তর দেওয়ার জন্য মোট তিন সপ্তাহ সময় পাবেন।

  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পুর কমিশনার বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

শুনানিতে কী উঠে এল?

অভিষেকের পরিবারের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে অভিযোগ করেন যে, একটি বাড়ির জন্য একাধিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ৪০১ ধারায় সরাসরি বাড়ি ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পুরনিগমের আইনজীবী জানান, এটি বাড়ি ভাঙার নির্দেশ নয়, বরং একটি ‘শোকজ’ (Show Cause) নোটিশ মাত্র।

পাল্টা সওয়ালে বিচারপতি স্মিতা দাস দে পুরনিগমকে ধমকের সুরে বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ী আগে মালিককে নোটিশ দেওয়া জরুরি। নোটিশ অস্পষ্ট হলে হবে না। বাড়ির কোন অংশ অবৈধ তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে।’’

পরবর্তী পদক্ষেপ

আগামী চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত পুরনিগমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আবেদনকারী মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন পুরনিগম পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে, যা নিয়ে এখন শহরজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।