‘অভিষেকের নেতৃত্বে শুধুই সং আছে, গঠন নেই!’ তীব্র আক্রমণে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ এখন তুঙ্গে। ৫৮ জন বিধায়ক নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষায় তোপ দাগলেন তিনি।

সংগঠন নাকি স্রেফ ‘সং’? সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের দিকে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সংগঠনের কথা বলছেন? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই ‘সং’ (সার্কাসের সং বা ভাঁড়) আছে, কোনো ‘গঠন’ নেই।” তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলে দিয়েছে।

মমতার ভূমিকা ও অভিষেককে প্রত্যাখ্যান বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান স্পষ্ট করে ঋতব্রত জানান, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে রাখতে চান। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, “আমাদের পরিষদীয় দলের সাথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। উনি আমাদের দলের কেউ নন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আমাদের নীতি—এই দুটি বিষয় ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত।”

সাংসদ পদ বাতিলের হুঁশিয়ারি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বিস্ফোরক দাবি করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে ‘জাল নথি’ (Fake Document) সম্বলিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ঋতব্রতর কথায়, “যদি এই জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তবে বিধানসভার স্পিকার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে অভিষেকের সদস্যপদ বাতিলের সুপারিশ করতে পারেন।”

সিআইডি তলব নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের অন্দরের এই ডামাডোলের মধ্যেই আগামীকালের সিআইডি তলব প্রসঙ্গে ঋতব্রত জানান, তিনি ও সন্দীপন সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তিনি এ নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য না করলেও, তৃণমূলের বর্তমান সংকটের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।

সব মিলিয়ে, তৃণমূলের এই নজিরবিহীন দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চেয়ে অভিষেককে বাদ দেওয়ার এই কৌশলী চাল রাজ্য রাজনীতির পরবর্তী দিনগুলোতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।