রেল স্টেশনে কেন ওষুধের দোকান নেই? জানলে চমকে যাবেন! জানুন নতুন নিয়ম

ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করেন যারা, তারা হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে খাবারের দোকান থাকলেও ওষুধের দোকানের অভাব বেশ প্রকট। জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ পেতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু স্টেশনে কেন ওষুধের দোকান থাকে না, তা কি জানেন? রেলের সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের পরেই এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
কেন এই নিয়ম বদল? আগে রেল স্টেশনে বুকস্টল, ওষুধের দোকান এবং বিবিধ পণ্যের দোকান আলাদাভাবে থাকতো। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের মতে, স্টেশনে প্রচুর ছোট দোকান থাকায় প্ল্যাটফর্মে ভিড় বাড়ছিল, যা যাত্রীদের চলাচলের জন্য সমস্যা তৈরি করছিল। এই ভিড় সামলাতে এবং জায়গা সাশ্রয় করতে রেলওয়ে তাদের রিটেল নীতি সংশোধন করেছে।
কী এই নতুন নিয়ম? রেল এখন আলাদা করে কোনো বইয়ের দোকান বা ওষুধের দোকানের জন্য স্থান বরাদ্দ করা বন্ধ করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে নিয়ে আসা হয়েছে ‘মাল্টিপারপাস স্টল’ (MPS)। এখন তিনটি দোকানকে একীভূত করে এই একটি মাত্র স্টল তৈরি করা হচ্ছে। অর্থাৎ, একটি স্টলেই বইয়ের পাশাপাশি পাওয়া যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিবিধ পণ্য এবং সাধারণ ওষুধ (যা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি করা যায়)। ফলে আলাদা ফার্মেসির আর প্রয়োজন পড়ছে না।
জরুরি অবস্থায় কী করণীয়? রেল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে আলাদা ওষুধের দোকানের জায়গা আর বরাদ্দ করা হবে না। তবে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের সহায়তায় রেলওয়ে সর্বদা সচেষ্ট:
-
প্রাথমিক চিকিৎসা: ট্রেনের গার্ড, টিটিই, স্টেশন মাস্টার এবং অন্যান্য কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার (First Aid) প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকে।
-
মেডিক্যাল বক্স: প্রতিটি স্টেশনেই ট্রেন বা স্টেশনের জন্য জরুরি মেডিক্যাল বক্সের ব্যবস্থা রাখা হয়।
-
হেল্পলাইন: প্রতিটি স্টেশনে নিকটবর্তী হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের ফোন নম্বরসহ তালিকা টাঙানো থাকে।
জন ঔষধি কেন্দ্রের উদ্যোগ: যদিও স্বাধীন ওষুধের দোকান কমে এসেছে, তবুও যাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সরকার এখন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ‘জন ঔষধি কেন্দ্র’ খোলার ওপর জোর দিচ্ছে। বর্তমানে ভারতের মাত্র ২১টি স্টেশনে নির্দিষ্ট ওষুধের দোকান রয়েছে, তবে এ-১ (A-1) ক্যাটাগরির স্টেশনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
মূল কথা: এখন থেকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কোনো নির্দিষ্ট আলাদা ফার্মেসি বা ওষুধের দোকান খোঁজা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি স্টেশন মাস্টার বা রেলকর্মীদের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।