রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর! সপ্তম পে কমিশন ও বকেয়া ডিএ নিয়ে এল বড় আপডেট

রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড়সড় প্রতিশ্রুতি মিলল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের বকেয়া ডিএ মেটানো এবং আগামী বছরের শুরুতেই নতুন বেতন কমিশন চালু করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তসমূহ:
বকেয়া ডিএ: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই সুবিধার আওতায় শুধু সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মীরাই নন, অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে এই বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সপ্তম পে কমিশন: আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যে এর খসড়ায় অনুমোদনও দিয়েছে।
বেতন কতটা বাড়তে পারে? (হিসাব)
নতুন বেতন কমিশন চালু হলে কর্মীদের মূল বেতন (Basic Pay) অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকার এখনও ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ঘোষণা করেনি, তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এটি ২.০ থেকে ২.৫-এর মধ্যে হতে পারে।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা: বর্তমানে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের (রোপা ২০১৯) অধীনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে কর্মীরা বেতন পান। যদি সপ্তম পে কমিশনে ২.৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়, তবে মূল বেতন প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইন হ্যান্ড স্যালারি: মূল বেতন বাড়লে তার সঙ্গে ডিএ, বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং যাতায়াত ভাতার পরিমাণও আনুপাতিক হারে বেড়ে যাবে। ফলে কর্মীদের হাতে পাওয়া বেতনের (In-hand salary) পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৭,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,৯০০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এই স্কেলে বড়সড় পরিবর্তন আসবে, যা নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত প্রতিটি কর্মচারীর আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই সরকারি মহলে স্বস্তির হাওয়া। তবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।