৬ বছর পর সুখবর! ভারত-তিব্বত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, খুশির হাওয়া পিথোরাকড়ে

দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার অবসান। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ থাকা উত্তরাখণ্ডের ঐতিহাসিক লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে ভারত-তিব্বত সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালু হতে চলেছে। ২০২৬ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের প্রস্তুতি:
পিথোরাগড়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ ভাটগনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে তা বিতরণও করা শুরু হয়েছে। এছাড়া ধারচুলার মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ জোশী জানিয়েছেন, গত ১ জুন ধারচুলার বাণিজ্য কার্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনেই ১০টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে।
বাণিজ্যে নতুন ‘পরিবর্তন’:
এ বছর সীমান্ত বাণিজ্যে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পণ্য পরিবহন করতে হতো। কিন্তু এবার ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ইন্দো-তিব্বত ট্রেড পয়েন্ট পর্যন্ত যানবাহনে পণ্য নিয়ে যেতে পারবেন। সেখান থেকে চীনা ভূখণ্ডে প্রবেশের জন্য তাঁদের মাত্র দুই কিলোমিটার হাঁটতে হবে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই নতুন নিয়মে সময়, শ্রম এবং যাতায়াত খরচ অনেকটাই কমবে।
অর্থনীতিতে নতুন গতি:
লিপুলেখ বাণিজ্য পথটি শতাব্দী প্রাচীন এবং সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ভিয়ান্স, দারমা ও চৌদাস উপত্যকা সংলগ্ন পুরো সীমান্ত অঞ্চলে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পণ্য বিনিময়: ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তিব্বতে গুড়, মিছরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে যাবেন। বিনিময়ে সেখান থেকে পশম, পশুখাদ্য ও কম্বল নিয়ে আসা হবে।
কর্মসংস্থান: স্থানীয়দের মতে, এই বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়ায় পরিবহন, হোটেল ও খুচরো ব্যবসায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
ট্রেড ইউনিয়ন সচিব দৌলত সিং রায়পা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এ বছরের বাণিজ্য আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।” সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ এখন এই বাণিজ্য মৌসুমের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন গতি প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।