তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন! দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েই বিস্ফোরক ঋতব্রত ও সন্দীপন

বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর তৃণমূলের ক্ষত যেন কিছুতেই শুকোচ্ছে না। বরং দলের অন্দরে বিধায়কদের সই জালিয়াতির বিতর্ক এখন শাসকদলের অস্বস্তি চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই দুর্নীতির পর্দাফাঁস করায় দল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়েছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টলির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে। তবে বহিষ্কারের পর ভয় পাওয়ার বদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করলেন এই দুই বিধায়ক।
কী অভিযোগ বহিষ্কৃত বিধায়কদের?
সই জালিয়াতির প্রসঙ্গে সন্দীপন সাহা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অন্যায় করবে দল আর তার দায় আমরা নেব? এটা হতে পারে না।” আর এক ধাপ এগিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলের পতন সময়ের অপেক্ষা।
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি করেছেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, সই জালিয়াতির পেছনে ‘ক্যামাক স্ট্রিট’-এর যোগ রয়েছে। ঋতব্রতর কথায়, “আমি দেখলাম যে বিধায়ক সেখানে উপস্থিত নেই, অথচ তাঁর নামে সই করা রয়েছে। পরে খেয়াল করলাম, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের কিছু চাকরিজীবী ওই খাতা নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, এই জালিয়াতির পেছনে সাধারণ সম্পাদকের অফিসের (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস) কর্মীদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক।”
কালীঘাটের ‘গোপন’ বৈঠকের বিতর্ক:
গত ৬ মে, ভোটের ফল প্রকাশের দুদিন পর কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে মমতা নির্দেশ দিয়েছিলেন, কঠিন সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করা চলবে না। এমনকি অভিষেকের ভূমিকাকে স্বীকৃতি জানাতে উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনাকেই ‘চাটুকারিতা’ বলে তোপ দেগেছেন ঋতব্রত। তাঁর মতে, দল যেভাবে ব্যক্তির পূজা করছে, তাতে তৃণমূলের অস্তিত্ব বিপন্ন। দলের অন্দরের এই বিভাজন ও প্রকাশ্যে আসা বিদ্রোহ শাসকদলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দিল।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
এদিকে, এই মন্তব্যের পরই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে তড়িঘড়ি দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বহিষ্কৃত বিধায়কদের এই ‘হুইসল ব্লোয়ার’ রূপ তৃণমূলের অন্দরে কত বড় ভাঙন ধরাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।