বলিউড থেকে এবার রাজনীতির ময়দানে ভূমি পেডনেকর? জল্পনা উসকে দিলেন খোদ অভিনেত্রী!

গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের রাজনীতির ময়দানে পা রাখা নতুন কিছু নয়। হেমা মালিনী, জয়া বচ্চন থেকে কঙ্গনা রানাওয়াত বা সায়নী ঘোষ—তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হতে পারে ভূমি পেডনেকরের নাম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজনীতিতে আসার ইঙ্গিত দিয়ে বলিপাড়ায় জোর জল্পনা তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী।
কী বললেন ভূমি?
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ভূমিকে প্রশ্ন করা হয়, কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো তিনিও রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন কি না? উত্তরে কোনো রাখঢাক না রেখেই ভূমি জানান, যদি দেশের বা সমাজের জন্য সরাসরি বড় কোনো কাজ করার সুযোগ আসে, তবে তিনি নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে যদি সুযোগ পাই এবং সঠিক সময় আসে, তবে নিশ্চিতভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবব। সমাজসেবা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে।”
অভিনয় ও সামাজিক সচেতনতা:
২০১৫ সালে ‘দম লগা কে হাইশা’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরুর পর থেকেই ভূমি গণ্ডি ভাঙার কাজ করেছেন। ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’, ‘বালা’ বা ওটিটি-তে ঝড় তোলা ‘ভক্ষক’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি সমাজের কোনো না কোনো বার্তা দিয়েছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘ন্যাশনাল অ্যাডভোকেট ফর এসডিজি’ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে নিজেকে একজন ‘ক্লাইমেট ওয়ারিয়র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
পারিবারিক ঐতিহ্য:
অনেকেই হয়তো জানেন না, ভূমির বাবা প্রয়াত সতীশ পেডনেকর মহারাষ্ট্রের একজন প্রথম সারির রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র ও শ্রমমন্ত্রী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই বাড়ির রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার পরিবেশ দেখে বড় হয়েছেন ভূমি। তাই অনেকের মতেই, বাবার জনসেবার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতেই হয়তো ভূমির এই আগ্রহ।
অভিনয় কি ছাড়ছেন?
রাজনীতির ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভূমি স্পষ্ট করেছেন যে, অভিনয়ই তাঁর প্রথম ভালোবাসা এবং আপাতত তিনি সিনেমা ছাড়ছেন না। বর্তমানে ‘দলদল’ সিরিজের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত তিনি। তবে ভবিষ্যৎ যে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে পারে, সেই দরজাটা খোলাই রাখলেন এই অভিনেত্রী।
বলিউডের একাংশের মতে, ভূমির মতো সচেতন ব্যক্তিত্ব যদি আগামী দিনে নীতি নির্ধারণের স্তরে আসেন, তবে তা রাজনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক হবে। এখন সময়ের অপেক্ষা— কবে তিনি পাকাপাকিভাবে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন।