লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে! ৫ বছর ধরে ‘লুঠ’, হরিশ্চন্দ্রপুরে তীব্র চাঞ্চল্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা নিয়ে এবার বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। অভিযোগ, এক উপভোক্তার প্রাপ্য সরকারি অনুদান টানা পাঁচ বছর ধরে অন্য এক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার সোনাকুল গ্রামের বাসিন্দা নুন নাহার ২০২০ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ, আবেদন করার পর আজ পর্যন্ত তাঁর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটি টাকাও জমা পড়েনি। অথচ ব্যাংক স্টেটমেন্টের নথি বলছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ওই সরকারি টাকা ঢুকেছে গ্রামেরই এক প্রাইভেট টিউটর গোলাম মর্তুজার অ্যাকাউন্টে। নুন নাহারের দাবি, বারবার ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা পাননি তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির চক্র। তিনি অভিযোগ করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছাড়াও গাছ লাগানো প্রকল্প ও ইন্দিরা আবাস যোজনাতেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “এটি শুধু শুরু, আগামী দিনে আরও বড় কেলেঙ্কারি সামনে আসবে।”
তৃণমূল বিধায়কের বিস্ফোরক দাবি:
এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মতিবুর রহমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েও চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত প্রয়োজন।” বিধায়কের আশঙ্কা, এই জালিয়াতির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ এবং প্রাক্তন বিধায়ক তাজমুল হোসেন ঘনিষ্ঠ মহলের যোগসাজশ থাকতে পারে। বিডিও অফিসের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
জনমনে উদ্বেগ:
হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন— এটি কি কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটের একটি বৃহত্তর চক্র? তদন্তের দাবিতে সরব বিরোধীরা। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি তাঁদের প্রাপ্য সরকারি অনুদান সঠিক হাতে পৌঁছাচ্ছে? এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে মালদহবাসী।