অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্মে কেন এত কড়াকড়ি? পর্দাফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বাড়াল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম পূরণ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। আবেদনকারীর নাম-ঠিকানা-বয়স ছাড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের তথ্য, এমনকি সন্তান কোন স্কুলে বা কোন ক্লাসে পড়ছে— যাবতীয় খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়েছে এই ফর্মে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই তথ্য সংগ্রহের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে, আজ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কেন এই বিস্তারিত তথ্য?
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকারি প্রকল্পের টাকা লুঠ রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত ২২টি এমন অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে যেখানে মহিলা নয়, বরং পুরুষরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিচ্ছেন।”

বিস্ফোরক তথ্য ও জালিয়াতির অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কিছু উদাহরণ দিয়ে জানান, জালিয়াতির জাল কতটা বিস্তৃত। তিনি বলেন, “মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ১৫টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলছেন। এছাড়াও তারিকুল রহমান নামে এক ব্যক্তির ৬টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধেও লক্ষ্মীর ভান্ডার লুঠের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ:
রাজ্যের ডিজিপি-কে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করে এই জালিয়াতির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, তদন্তের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে।

৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যে স্ক্রুটিনি চলছে, তাতে এফআইআর-এ বাদ যাওয়া নাম এবং পুরুষ উপভোক্তা মিলিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তছরুপের ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।