সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি! ডিএ নিয়ে সুখবরের ইঙ্গিত, ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার নিয়োগের ঘোষণা

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার নবান্নে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের এই বৈঠকে ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা এবং শূন্যপদে নিয়োগ নিয়ে একাধিক ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলেছে।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুতি:
-
ডিএ নিয়ে সুখবর: মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। আগামী ২২ জুন বাজেট পেশের সময় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘সুখবর’ থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
-
নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা: চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে এই সংক্রান্ত নিয়োগ নীতি ঘোষণা করা হতে পারে।
-
পে কমিশন: নতুন পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
-
সুপ্রিম কোর্ট মামলা: ডিএ সংক্রান্ত আইনি লড়াই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। আদালত যে নির্দেশ দেবে, সরকার তা পূর্ণমাত্রায় মেনে চলবে। এছাড়া, ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সঙ্গে আলোচনার জন্য সংগঠনগুলিকে নিজেদের মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে।
কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা: বৈঠক শেষে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কর্মচারীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা না থাকে। এছাড়া, বিগত আন্দোলনের জেরে যেসব কর্মচারী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আইনি মামলার মুখে পড়েছেন, তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
বকেয়া ডিএ প্রদানের প্রক্রিয়া: উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির আগে অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের বকেয়া ডিএ মেটানো শুরু হয়েছে। অর্থ দফতর সূত্রে খবর, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র টাকা ইতিমধ্যেই পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার এই উদ্যোগ নবান্নের বর্তমান প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছাকেই তুলে ধরছে। এখন ২২ জুনের বাজেটে ডিএ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী ঘোষণা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।