‘আমিও খেলতে জানি’, দল ভাঙার খেলার কড়া জবাব মমতার! বহিষ্কৃত বিধায়কদের দিলেন হুঁশিয়ারি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সোমবার চরমে পৌঁছাল। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরপরই কালীঘাটের বাসভবন থেকে ভিডিও বার্তায় তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘আমিও বড় খেলোয়াড়’ দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা দল ভাঙার খেলা খেলছেন, তাঁদের বলছি—আমিও বড় খেলোয়াড়। অপেক্ষা করুন।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কেউ পার পাবে না এবং তৃণমূলকে দুর্বল করার যে চক্রান্ত চলছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক পটভূমি ও উদ্বেগ নির্বাচনের পর থেকেই দলের কাউন্সিলরদের পদত্যাগ এবং দলীয় বৈঠকে বিধায়কদের অনুপস্থিতি সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের অনেক জনপ্রতিনিধিই বর্তমানে বিজেপির সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে নেত্রীর কাছে খবর রয়েছে। মমতার এদিনের বক্তব্য প্রমাণ করে যে, এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছেন এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
বিজেপি ও অভিষেক ইস্যুতে মমতার তোপ কেবল অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নয়, বিজেপির বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা। কলকাতা হকার উচ্ছেদ অভিযান থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা—সবকিছুই এই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিযোগ তাঁর। অভিষেককে নিয়ে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার করা বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে তিনি বলেন, “হেলমেট না থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত। এখন বিজেপি নেতারা বলছেন, ‘বেঁচে তো আছে’। এই মানসিকতা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
ঐক্যের ডাক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহিষ্কারের এই পদক্ষেপ এবং সরাসরি ভিডিও বার্তা দিয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা—দলের অন্দরে ‘মমতা-যুগ’ যে এখনই শেষ হয়নি, তা বুঝিয়ে দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই কঠোর অবস্থানের পর বিধায়কদের এই বিদ্রোহ বা দল ছাড়ার হিড়িক কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে।