অভিষেকের বাড়িতে ফের CID, তলব এড়ানোর পরেই বাড়ল তৎপরতা

বিধানসভার সই-জালিয়াতি মামলা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। সোমবার ভবানী ভবনে সিআইডি (CID)-র বিশেষ তদন্তকারী দলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি তা এড়িয়ে যান। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে হাজির হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা ছড়িয়েছে।
সিআইডির তৎপরতা শনিবারের পর সোমবার ফের ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সিআইডি আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছান। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁরা সেখানে পৌঁছালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, একটি নতুন নোটিশ দেওয়া হয়েছে যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করতে হবে। তবে তিনি উপস্থিত না থাকায়, তাঁর একজন প্রতিনিধি এসে স্বাক্ষর করে নোটিশটি গ্রহণ করেন।
অসুস্থতার দাবি ও বিতর্কের আবহ অভিষেকের আইনজীবীর পক্ষ থেকে তদন্তকারী সংস্থাকে জানানো হয়েছে যে, শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি আপাতত হাজিরা দিতে অক্ষম। তবে কবে নাগাদ তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর তোপ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, “তদন্তের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্ত এই দল। সই-জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে দলের বিধায়করাও মুখ খুলেছেন।” প্রসঙ্গত, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল সম্প্রতি তাদের দুজন বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি বিধানসভার নথিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, বিধানসভার সই জাল বিতর্কের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে কথা বলার পর সিআইডি তদন্তে আরও নতুন তথ্য উঠে আসছে বলে সূত্রের দাবি। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, তদন্তের পরবর্তী ধাপে সিআইডি কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কবে তদন্তের মুখোমুখি হন।