‘লাড়কি বহিন’ যোজনায় বড় কোপ! ৮০ লক্ষ মহিলাকে ছাঁটাই করল মহারাষ্ট্র সরকার

মহারাষ্ট্র সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় কল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লাড়কি বহিন’ যোজনায় বড়সড় ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করল রাজ্য সরকার। প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এক ধাক্কায় ৮০ লক্ষ মহিলাকে অযোগ্য ঘোষণা করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২.৪৬ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৬৬ কোটিতে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—

  • পুরুষদের অবৈধ অনুপ্রবেশ: পুরুষরা মহিলা সেজে আবেদন করে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে সরকারি অনুদান নিচ্ছিলেন।

  • ভুয়া নথিপত্র: জাল আবেদনপত্র এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে দালালচক্র এই প্রকল্প থেকে সুবিধা তুলছিল।

  • স্বচ্ছতা আনয়ন: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শুধুমাত্র প্রকৃত দুঃস্থ মহিলাদের কাছে যাতে অর্থ পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই ই-কেওয়াইসি যাচাই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাজেট ও প্রভাব এই জালিয়াতি রুখতে গিয়ে রাজ্যের কোষাগারে বড়সড় সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমিয়ে ২৬,৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমান পর্যায়ে নতুন করে কোনো সুবিধাভোগীকে আর প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হবে না। অর্থমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যোজনার মূল লক্ষ্য ছিল অভাবী মহিলাদের সাহায্য করা, জালিয়াতি করে টাকা নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক মহারাষ্ট্রের এই অন্যতম বড় কল্যাণমূলক প্রকল্পটি কার্যত এখন ‘টার্গেটেড’ বা লক্ষ্যভিত্তিক করার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। গ্রামাঞ্চল থেকে শহরের অলিগলি—যেভাবে দালালচক্রের মাধ্যমে এই প্রকল্পের টাকা তছরুপ হচ্ছিল, তাতে বিরোধী দলগুলোর আক্রমণের মুখেও পড়তে হচ্ছে সরকারকে। তবে প্রশাসনের দাবি, ৮০ লক্ষ জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করে টাকা বাঁচানোই বর্তমান সরকারের বড় সাফল্য।