চুল কি খড়ের মতো রুক্ষ? শ্যাম্পুর ভুল নিয়মে সর্বনাশ করছেন না তো? জানুন ঘরোয়া সমাধান

সকালে উঠে আয়নায় নিজের চুলের অবস্থা দেখে মন খারাপ? শ্যাম্পু করার ১ ঘণ্টা পরেই চুল রুক্ষ, চিরুনি চালাতে গেলেই জট পাকিয়ে যাচ্ছে? রোদে বেরোলে মনে হচ্ছে চুল পুড়ছে, আবার অফিসের এসি-র হাওয়ায় চুল হয়ে যাচ্ছে প্রাণহীন। নামী-দামী ব্র্যান্ডের সিরাম বা হেয়ার মাস্ক মেখে পকেট ফাঁকা হলেও সুফল মিলছে না। আসলে গরমে চুলের প্রোটিন ও জলীয় অংশ দুটিই কমে যায়। বাইরে থেকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করলে সাময়িক ঔজ্জ্বল্য পাওয়া গেলেও চুলের স্বাস্থ্য ভেতর থেকে ঠিক হয় না। তাই চুলের যত্নে প্রয়োজন মা-দিদিমার আমলের ঘরোয়া টোটকা। মাত্র এক সপ্তাহ নিয়ম মেনে চললে আপনার চুল দেখে সবাই জিজ্ঞাসা করবে, কোন পার্লারে হেয়ার স্পা করিয়েছেন!
কেন শ্যাম্পুর পরেও চুল রুক্ষ হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ৩টি কারণে শ্যাম্পুর পরও চুলের রুক্ষতা দূর হয় না:
হার্ড ওয়াটার ও রোজ শ্যাম্পু: কলের জলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্লোরিন থাকে। রোজ শ্যাম্পু করলে চুলের ন্যাচারাল তেল ধুয়ে যায়, ফলে চুল ভাঙতে শুরু করে।
রোদ ও এসি-র প্রভাব: সূর্যের UV রশ্মি চুলের কিউটিকল ফাটিয়ে দেয়, আবার এসি-র হাওয়া শরীরের মতো চুলের আর্দ্রতাও শুষে নেয়।
ভুল কন্ডিশনার: অধিকাংশ মানুষ কন্ডিশনার গোড়ায় লাগান এবং মাত্র ১০ সেকেন্ড রেখে ধুয়ে ফেলেন, যার ফলে কোনো কাজই হয় না।
চুলকে ‘মাখন’ করতে ৫টি জাদুকরী হেয়ার প্যাক:
সপ্তাহে দুই দিন (রবিবার ও বুধবার) এই প্যাকগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
১. নারকেল তেল ও অ্যালোভেরা: ৩ চামচ খাঁটি নারকেল তেলের সঙ্গে ২ চামচ ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে স্ক্যাল্প থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। ১ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু করুন। এটি চুলের গভীরে আর্দ্রতা জোগায়।
২. টক দই, মধু ও কলার প্যাক: ১টি পাকা কলা, ৩ চামচ টক দই ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি ৩০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখুন। এটি প্রোটিন ও ময়েশ্চারের দারুণ উৎস।
৩. মেথি ও দই: রাতে ভেজানো ২ চামচ মেথি বেটে ৪ চামচ টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে লাগান। ৪৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি খুশকি ও ইচিং কমাতে অতুলনীয়।
৪. পেঁয়াজের রস ও ক্যাস্টর অয়েল: পেঁয়াজের রসের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল ও নারকেল তেল মিশিয়ে শুধু চুলের গোড়ায় লাগান। এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
৫. চাল ধোয়া জল: জাপানি মেয়েদের সৌন্দর্যের মূল রহস্য হলো এটি। শ্যাম্পুর পর চাল ধোয়া জল (১ দিন ফার্মেন্ট করা) দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। ধুবেন না। এতে থাকা ইনোসিটল চুলের জেল্লা ফেরায়।
শ্যাম্পু-কন্ডিশনার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:
সপ্তাহে ৩ দিনের বেশি শ্যাম্পু করবেন না। শ্যাম্পু শুধু স্ক্যাল্পে লাগান, লেংথে ঘষবেন না।
কন্ডিশনার সবসময় কানের নিচ থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান এবং ৩ মিনিট অপেক্ষা করুন।
গরম জল কিউটিকল খুলে দেয়, তাই শ্যাম্পু শেষে শেষ মগটি ঠান্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়াবেন না এবং তোয়ালে দিয়ে ঘষে জল মুছবেন না।
বন্ধ করুন এই ৩ ভুল:
১. ভেজা চুলে বাইরে বেরোবেন না, কারণ এতে দূষণ বেশি বসে।
২. টাইট পনিটেল বা খোঁপা করবেন না, এতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়।
৩. গরমে স্ট্রেটনার বা হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। একান্তই করতে হলে হিট প্রোটেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করুন।
পার্লারে ১৫০০ টাকা খরচ না করে, নামমাত্র মূল্যে ঘরেই যত্ন নিন আপনার চুলের। নিয়ম মেনে ৭ দিন চললেই তফাতটা নিজের চোখেই দেখতে পাবেন।