বিধানসভায় সই জালিয়াতির বড় অভিযোগ! ‘১৫ বছরে কি সব সই জাল?’ বোমা ফাটালেন তাপস রায়

বিধানসভার ভেতরে সই জালিয়াতির মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শোরগোল। একদিকে তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ, অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
কী ঘটেছিল বিধানসভায়? ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলে বিধায়ক দলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে। ৬ মে এবং ১৯ মে—দুটি ভিন্ন সময়ে জমা দেওয়া চিঠির সই পরীক্ষা করতে গিয়েই বিধানসভার সচিবালয়ের নজরে আসে গুরুতর অসঙ্গতি। অভিযোগ, বহু বিধায়ক বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের সই জাল করে চিঠিতে বসানো হয়েছে। এই জালিয়াতি রুখতে এবং সত্য উদ্ঘাটনে এবার তদন্তে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্যান কার্ডের সইয়ের সঙ্গে বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠির সই মেলাতে একজন হস্তরেখাবিদকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তাপস রায়ের নিশানায় তৃণমূল: এই ঘটনাকে ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ বা অপরাধমূলক কাজ বলে দাগিয়ে দিয়ে তাপস রায় বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে তো নয়ই, দেশের কোনো বিধানসভাতেই এমন ঘটনা ঘটেনি। এটা জালিয়াতি!’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘গত ১৫ বছরে কি তাহলে অন্য কোনো মন্ত্রী, আমলা, সাংসদ বা বিধায়কের সইও জাল করা হয়েছে? এবার আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।’’
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা: তাপস রায়ের মতে, যদি হাতের লেখা বা সই মেলানোর পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে শাসক দল তৃণমূলের জন্য এটি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আইনি দিক থেকে যদি বিধায়কদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তবে স্পিকার যেমন ব্যবস্থা নিতে পারেন, তেমনই বাইরের কেউ জড়িত থাকলে পুলিশের আইনি শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে সংশ্লিষ্টদের।
তৃণমূল বিধায়ক বাহারুলসহ অনেকের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় এবং বৈঠকের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এই সই কাণ্ড এখন তৃণমূলের অন্দরেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।